


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের জোগান বন্ধ। বুধবার দীঘার একাধিক হোটেলে দুপুরের রান্নার মধ্যেই সিলিন্ডার খালি। অর্ধেক রান্নার পর হোটেল মালিক থেকে কর্মীরা সিলিন্ডারের জন্য দৌড়ঝাঁপ করেন। বাড়ি থেকে ডোমেস্টিক সিলিন্ডার এনে রান্না সম্পূর্ণ করা হয়। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে অনেক হোটেলেই রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যাবে বলে দীঘা-শংকরপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশান্ত পাত্র জানান। এদিন দুপুরে সুশান্তবাবুর নিজের হোটেলেও রান্না করার সময় গ্যাস শেষ হয়ে যায়। তারপর বাড়ি থেকে গ্যাস এনে অসম্পূর্ণ রান্না সম্পূর্ণ হয়। এদিন গ্যাসের জোগান ছিল না। সুশান্তবাবুর মতো অনেক হোটেলে উপোস করার মতো অবস্থা। দীঘায় রান্নার গ্যাসের এই হাহাকারের জেরে পর্যটনে তার প্রভাব পড়বে। এই ঘটনা নজিরবিহীন বলে হোটেল মালিকদের বক্তব্য।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এমনিতেই হেঁশেলে আগুন লেগেছে। গ্যাস আরো মহার্ঘ হয়েছে। ডোমেস্টিক গ্যাসের জোগান থাকলেও কমার্শিয়াল গ্যাসের জোগান নেই। তমলুকে বর্গভীমা মায়ের মন্দিরে মানসিক ভোগ ও কুপন কেটে রান্না করা ভোগ ২০ মার্চের পর অনিশ্চিত। বুধবার মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে একথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেবীকে নিত্য ভোগ দেওয়া হলেও ভক্তদের জন্য রান্না করা ভোগ জোগান দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই মানসিক ভোগ ও কুপন কেটে খাওয়ার ভোগের অর্ডার নেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।
তবে, হোটেলের অবস্থা আরো সংকটজনক। কারণ, সেখানে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। আর, কয়েকদিন ধরে এই বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান নেই। সিলিন্ডার আসছে না। একেবারে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বুধবার মোবাইলে মেসেজ করে গ্যাস বুক করা যাচ্ছিল না। তাই রান্নার গ্যাসের বুকিং করার জন্য বুধবার তমলুকে বাড়পদুমবসানে কাউন্টারে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। বয়স্করাও কার্ড নিয়ে অফিসে চলে আসেন। এইচপি গ্যাসের তমলুকের বাড় পদুমবসান কাউন্টারের ম্যানেজার প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের দৈনিক ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ ডোমেস্টিক গ্যাস বুক হয়। এখন আতঙ্কের জেরে সেই সংখ্যাটা আড়াই হাজার ছাপিয়ে যাচ্ছে। যদিও ডোমেস্টিক গ্যানের জোগান স্বাভাবিক। কিন্তু, কমার্শিয়াল গ্যাসের জোগান নেই।
দীঘা-শংকরপুরের হোটেল মালিকদের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কীভাবে হোটেল চালু থাকবে তা নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন। তাঁদের অনেকেই কাঠ, কয়লা প্রভৃতি পুড়িয়ে রান্নার দিকে ঝুঁকতে চাইছেন। কেউ কেউ ইলেক্ট্রিক পুড়িয়ে রান্না করার উপর জোর দিচ্ছেন। রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক না-হলে খাবার মহার্ঘ হয়ে উঠবে। পর্যটকরা এর ফলে সমস্যায় পড়বেন। তাই পর্যটন ব্যবস্থায় বড়োসড়ো ধাক্কা আসতে চলেছে।
দীঘা-শংকরপুর হোটেল মালিক সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, কমার্শিয়াল গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সিলিন্ডার নিয়ে গাড়ি আসছে না। এদিকে, অধিকাংশ হোটেলে স্টক সিলিন্ডার ফুরিয়ে এসেছে। এখন কাঠ, কয়লা প্রভৃতি পুড়িয়ে অনেকেই রান্না করার কথা ভাবছেন। কবে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে জানি না। তবে, এই ঘটনা দীঘার পর্যটনে বড়ো প্রভাব ফেলতে চলেছে।