প্রীতেশ বসু ও শ্রীকান্ত পড়্যা, দীঘা: বুধবারই পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে প্রথমবার আয়োজিত রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে তখন থেকেই মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনার পারদ চড়ছিল। শুক্রবারের মাহেন্দ্রক্ষণে সেই উদ্দীপনাই বিপুল জনস্রোত হয়ে আছড়ে পড়ল মন্দির চত্বরে। লক্ষ কণ্ঠে ‘জয় জগন্নাথ’ আর পুণ্যার্থীদের বিপুল উচ্ছ্বাসে ভর করে এক কিলোমিটার দূরে মাসির বাড়ির দিকে গড়াতে শুরু করল রথের চাকা। সেই যাত্রায় লক্ষ মানুষের সঙ্গে শামিল হলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও। কখনও তাঁকে দেখা গেল কাঁসর বাজাতে। কখনও আবার রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমানো পুণ্যার্থী, সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলাতে ব্যস্ত থাকলেন তিনি। সাগরপাড়ের পর্যটন শহর এই প্রথম সাক্ষী থাকল এক অভূতপূর্ব রথযাত্রার।
শুক্রবার বেলা ঠিক ২টো বেজে ১৯ মিনিটে রথের চাকা গড়াতে শুরু করে। রথের রশিতে টান দিয়ে শুভ সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দিরের মূল ফটকের সামনে বড় রাস্তায় পরপর তিনটি রথ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এদিন সকাল থেকে ভিড় জমতে শুরু করে মন্দির চত্বরে। সবাই অপেক্ষা করছিলেন, কখন আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! রথের রশি ছুঁয়ে পুণ্য সঞ্চয় করবেন তাঁরা! সকাল ৯ টায় শুরু হয় ‘পাহান্ডি বিজয়’। অর্থাৎ, জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার বিগ্রহ রথে এনে তোলা হয়। এরপর রথেই চলে পূজা-অর্চনা সহ নানা ধর্মীয় আচার পালন। দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীরা ততক্ষণে কীর্তনের সুরে-তালে মাতিয়ে তুলেছেন আগত পুণ্যার্থীদের। ঢাক, ঢোল, শ্রীখোল, কাঁসরের শব্দে গমগম করে ওঠে দীঘার বিস্তীর্ণ বেলাভূমি। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন পুলিস ও প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা। বেলা ২টো নাগাদ অতিথি নিবাস থেকে রথের সামনে এসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। একে একে তিনটি রথের সামনে গিয়ে আরতি করেন। রীতি অনুযায়ী রথের যাত্রাপথ সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দেন তিনি। তারপর আরও অনেকের সঙ্গে রথের রশিতে টান দিয়ে রথযাত্রার সূচনা করেন।
চৈতন্যদ্বার পার করে রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুণ্যার্থীদের দর্শন দিতে দিতে মাসির বাড়ির দিকে এগিয়ে যায় রথ। প্রথমে বলরাম, মাঝে সুভদ্রা এবং শেষে জগন্নাথদেবের রথ এগতে থাকে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী রাস্তার ধার বরাবর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল রথের রশি। ফলে রশি স্পর্শ করার সুযোগ পেয়েছেন সবাই। রথের সঙ্গে সঙ্গে এগতে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। দু’দিকের বাড়িঘর থেকে অনেকে হাত নেড়ে মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তবে দিঘালী-২ অতিথি নিবাস পার হতেই জগন্নাথের রথের চাকায় কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। দ্রুত সেই সমস্যা কাটিয়ে ৪ টে ১৫ মিনিট নাগাদ রথ পৌঁছয় মাসির বাড়ি। ভিড়ের চাপে এক কিলোমিটার পথ পেরতেই লেগে যায় প্রায় দু’ঘণ্টা। এরপর সৈকত সরণি ধরে অতিথি নিবাসে ফেরেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেলেই কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়ে যান তিনি।