


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জগদীপ ধনকারকে নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা এবং চর্চা প্রবল আকার ধারণা করেছে। সোমবার রাতে উপ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে ধনকার শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে আচমকা ইস্তফা দিয়েছেন। মঙ্গলবার ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, বিরোধীরা তো বটেই, এ বিষয়ে খোদ সরকারপক্ষও ছিল সম্পূর্ণ অন্ধকারে। তাই মঙ্গলবার সকাল থেকেই সংসদের অলিন্দে দিনভর একটাই চর্চা ছিল, সরকারের সঙ্গে ধনকারের হঠাৎ কী নিয়ে প্রবল দূরত্ব ও তিক্ততা তৈরি হল? বিরোধীদের বক্তব্য, দুপুর ১ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টের মধ্যে কী এমন ঘটেছিল? সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ডাকা হয়েছিল বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির বৈঠক। এই বৈঠকে লোকসভা ও রাজ্যসভায় আগামী এক সপ্তাহ কী কী ইস্যুতে আলোচনা হবে, কোনও বিল নিয়ে আলোচনা ও অনুমোদনের সময় বরাদ্দ করা হচ্ছে কি না ইত্যাদি আলোচনা হয়ে থাকে। সরকারপক্ষ, স্পিকার, চেয়ারম্যান, বিরোধী দলগুলির সংসদীয় দলনেতারা সেখানে হাজির থাকেন। সোমবার দুপুরে ধনকারের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে বিরোধীরা তো বটেই, সরকারপক্ষের রাজ্যসভার নেতা জগৎপ্রকাশ নাড্ডা, সংসদীয়মন্ত্রী কিরেন রিজিজু উপস্থিত ছিলেন। কমিটির আলোচনা অর্ধসমাপ্ত থাকে। স্থির হয় আবার সোমবার বিকেল সাড়ে চারটের সময় ফের বৈঠক হবে। কিন্তু সাড়ে চারটের সময় দেখা যায় ধনকার এবং বিরোধী নেতারা অপেক্ষা করছেন। অথচ সরকারপক্ষের কেউই এলেন না। এমনকী ধনকারকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানোই হয়নি যে, কেউ বৈঠকে আসতে পারছে না। ফলে ধনকার মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় ফের বৈঠক হবে বলে উঠে পড়েন। বিকেল সাড়ে ৪ টের পর কেন্দ্রীয় তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রক, জানায় উপ রাষ্ট্রপতি ২৩ জুলাই যাবেন জয়পুরে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় ধনকারের সঙ্গে কয়েকজন বিরোধী নেতার নাকি কথা হয়েছে। কিন্তু তখনও পর্যন্ত কেউ আঁচ করতে পারেননি যে তিনি ইস্তফা দিতে চলেছেন। বস্তুত, ধনকারের সঙ্গে মোদি সরকারের শীর্ষ স্তরের সম্পর্কের ফাটল এতটাই যে, তাঁকে ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার কোনও অনুরোধ করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মঙ্গলবার বলেছেন, কোনও গড়বড় নিশ্চয় আছে। আমার মনে হয় তিনি যথেষ্টই সুস্থ আছেন।
প্রত্যাশিত ছিল ধনকার মঙ্গলবার সংসদে বিদায় ভাষণ দেবেন। কারণ দুপুরের আগে রাষ্ট্রপতি তাঁর ইস্তফা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেননি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দেন। সেখানে একটি বাক্য তিনি বলেন, জগদীপ ধনকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদে থেকে দেশকে সেবা করার বহু সুযোগ পেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে আসলে কী হয়েছে? একটি অভিমত হল, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে ধনকারের সম্পর্ক কিছুটা তিক্ত হয়েছিল। বিড়লা এবং ধনকার উভয়েই রাজস্থানের রাজনীতিবিদ। পাশাপাশি জল্পনা এরকমও রয়েছে যে, ধনকার বিরোধীদের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন বলেও নাকি সরকারপক্ষ ক্ষুব্ধ। বিজেপি এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব। কিন্তু প্রশ্ন হল, সোমবার দুপুরে আড়াই ঘন্টায় ঠিক কী এমন ঘটল? ধনকড় অধ্যায়কে সমাপ্ত ধরে নিয়ে বিজেপি প্রার্থী মনোনয়নে ঝাঁপাচ্ছে উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচনে। ফাইল চিত্র