Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডোমকলে আস্থা ভোটে অপসারিত হলেন ধুলাউড়ি পঞ্চায়েতের প্রধান, আরও ২ পঞ্চায়েতে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি

রাজ্যে পালাবদলের পর তাসের ঘরের মতো ভাঙতে শুরু করেছে তৃণমূলের সংগঠন। এবার অনাস্থা বৈঠকে ভোটাভুটিতে পদ খোয়াতে হল এক পঞ্চায়েত প্রধানকে।

ডোমকলে আস্থা ভোটে অপসারিত হলেন ধুলাউড়ি পঞ্চায়েতের প্রধান, আরও ২ পঞ্চায়েতে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: রাজ্যে পালাবদলের পর তাসের ঘরের মতো ভাঙতে শুরু করেছে তৃণমূলের সংগঠন। এবার অনাস্থা বৈঠকে ভোটাভুটিতে পদ খোয়াতে হল এক পঞ্চায়েত প্রধানকে। মঙ্গলবার ডোমকলের ধুলাউড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে বাম, কংগ্রেস, বিজেপি সহ তৃণমূল সদস্যদের একাংশ একজোট হয়ে ভোট দেন। সেই ভোটের ভিত্তিতেই প্রধানকে তাঁর পদ থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩০ আসনের ওই পঞ্চায়েতে সিপিএম ১১টি, কংগ্রেস ৭টি, বিজেপি ২টি এবং তৃণমূল ১০টি আসনে জয়ী হয়েছিল। বাম-কংগ্রেস জোট বোর্ড গঠন করে এবং সিপিএমের পিনজুরা বিবি প্রধান নির্বাচিত হন। তবে পরবর্তীতে প্রধান সহ মোট ৮ সদস্য তৃণমূলে যোগ দিলে বোর্ডের দখল নেয় তৃণমূল। এরপর নির্দিষ্ট সময় পেরতেই প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার দাবি ওঠে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার অনাস্থা বৈঠক ডাকে প্রশাসন। এদিন কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে বৈঠক হয়। প্রধান সহ মোট ৩ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। বাকি ২৭ সদস্য অনাস্থার পক্ষে ভোট দেন। ফলে ধুলাউড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পিনজুরা বিবিকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নতুন করে বৈঠক ডেকে প্রধান নির্বাচন করা হবে। ততদিন উপপ্রধান দায়িত্ব সামলাবেন।
কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী উপপ্রধান রেজাউল মণ্ডল বলেন, বাম-কংগ্রেস জোট করে বোর্ড গঠন হয়েছিল। কিন্তু পরে প্রধান নিজের স্বার্থে তৃণমূলে যোগ দেন। এরপর থেকে বিরোধী সদস্যদের গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো পঞ্চায়েত চালাচ্ছিলেন। দুর্নীতি ও একতরফা কাজকর্মে অতিষ্ঠ হয়েই আমরা একজোট হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছি।
যদিও পঞ্চায়েত প্রধান পিনজুরা বিবি বলেন, ওরা দুর্নীতি করতে চাইছিল। আমি তাতে রাজি হইনি বলেই আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে। আমি অসুস্থ থাকায় ভোটাভুটিতে যেতে পারিনি। ডোমকলের বিডিও শঙ্খদ্বীপ দাস বলেন, এদিন শান্তিপূর্ণভাবেই অনাস্থা বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। মোট ২৭ সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং সকলেই অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
এদিকে, ডোমকলের ঘোড়ামারা গ্রাম পঞ্চায়েতে উপপ্রধান বিলকিস বেগমের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার দাবিতে আবেদন জমা দিয়েছেন তৃণমূলেরই সদস্যদের একাংশ। পঞ্চায়েত প্রধান বেবি নাজমিন বলেন, উপপ্রধান সদস্যদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করতে পারেননি। সদস্যদের আস্থা হারিয়েছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে। আমিও সেই দাবিকে সমর্থন করেছি। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য উপপ্রধান বিলকিস বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ফোনে এক মহিলা জানান, তিনি ব্যস্ত রয়েছেন এবং কথা বলতে পারবেন না।
একইভাবে রানিনগরের মালিবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বিরুদ্ধেও অনাস্থা আনার দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন সদস্যদের একাংশ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ