Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধর্মতলা বা হাওড়া পৌঁছতে কালঘাম ছোটে সাউথ বাওয়ালির বাসিন্দাদের

ধর্মতলা বা হাওড়া পৌঁছতে কালঘাম ছোটে সাউথ বাওয়ালির বাসিন্দাদের
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বজবজ: পাকা সড়কের দু’পাশে সারি সারি একতলা, দোতলা বাড়ি। আলো ঝলমলে দোকানপাট। সরকারি স্কুলের পাশাপাশি একাধিক প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। আগাগোড়া শহুরে পরিবেশ হলেও সাউথ বাওয়ালি আদতে বজবজ ২ নং ব্লকের আওতাধীন একটি পঞ্চায়েত এলাকা।  স্বভাবতই জনসংখ্যাও গ্রামাঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি। এই এলাকার বিপুল সংখ্যক বাসিন্দার একটি প্রধান সমস্যা হল কলকাতার ধর্মতলা, হাওড়া কিংবা নিউটাউন যাতায়াতের জন্য সরাসরি কোন বাস পরিষেবা না থাকা। একাধিক অটো পাল্টে ঠাকুরপুকুর বাজারে পৌঁছে সরকারি বা বেসরকারি বাস ধরতে হয় তাঁদের। এর জন্য টাকাও যেমন বেশি খরচ হচ্ছে, তেমনই সময় লাগছে অনেক বেশি। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষজন রীতিমতো তিতিবিরক্ত। তাঁদের কথায়, ধর্মতলা, হাওড়া বা নিউটাউন পর্যন্ত সরাসরি বাস রুটের জন্য প্রশাসনের কাছে বহুবার দরবার করা হয়েছে। তার ফলশ্রুতিতে কয়েকমাস আগে বাওয়ালি থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি সরকারি বাস চালুও হয়। কিন্তু সেই বাসটি বজবজ, চড়িয়াল হয়ে বাটার উপর দিয়ে তারাতলা হয়ে ধর্মতলা যায়। সাউথ বাওয়ালির মানুষ চেয়েছিলেন, বাসের রুটটি বাওয়ালি থেকে রায়পুর, বাখরাহাট, ঠাকুরপুকুর,  বেহালা হয়ে ধর্মতলা পর্যন্ত হোক। কারণ এই রুটেই সবচেয়ে বেশি মানুষ যাতায়াত করেন। 
Advertisement
বাওয়ালি ট্র্রেকার স্ট্যান্ডের পাশে অটোর অপেক্ষায় দাঁড়ানো যাত্রী রমেশ দাস বলছিলেন, ‘এভাবে গাড়ি পাল্টে যেতে-আসতে এত টাকা বেরিয়ে যায় যে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়।’ ধর্মতলার একটি বেসরকারি সংস্থায় রমেশবাবু কাজ করেন। সাউথ বাওয়ালি থেকে ঠাকুরপুকুর পর্যন্ত  দূরত্ব প্রায় ১৭ কিলোমিটার। স্থানীয় কালীনগরের বাসিন্দা উমেশ রায়ের কথায়, ‘এখান থেকে বাওয়ালি ট্রেকার স্ট্যান্ড এক কিলোমিটার। অটোতে ১০ দশ টাকা ভাড়া। ট্রেকার স্ট্যান্ড থেকে ফের অটো ধরে বাখরাহাট রায়পুর মোড় পর্যন্ত চার কিলোমিটার যেতে ভাড়া ১৪ টাকা। রায়পুর মোড় থেকে আবার অটো পাল্টে ঠাকুরপুকুর, ১২ কিলোমিটার রাস্তা যেতে ভাড়া ৩০ টাকা। বুঝতেই পারছেন, কতটা বেশি টাকা ও সময় নষ্ট হয় আমাদের! তারপর সন্ধ্যা ৭টা বেজে গেলে সবসময় অটোও মেলে না। তখন ভোগান্তির একশেষ হতে হয়।’ নাম কা ওয়াস্তে একটি মাত্র সরকারি বাস বাওয়ালি থেকে চালু হলেও সেটির রুট সঠিক না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের কোনও সুরাহা হচ্ছে না বলেই দাবি তাঁদের। ওই বাসটির আসা-যাওয়ার সময়ের ঠিকঠিকানা নেই। সকালে কখন বাসটি আসে, কখন ছেড়ে যায়, তার নির্দিষ্ট সূচি কেউ জানে না। ফলে বাস চালু হলেও তার কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না বাওয়ালির সাধারণ মানুষ। আর কতদিন এই যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে, আপাতত সেই উত্তরই হাতড়াচ্ছেন তাঁরা। 
সম্পর্কিত সংবাদ