Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধর্মকে যত আঘাত করবে, সব মানুষ তত জবাব দেবে বিজেপিকে: তৃণমূল

ধর্মকে যত আঘাত করবে, সব মানুষ তত জবাব দেবে বিজেপিকে: তৃণমূল
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে অনেক দিন ধরেই সরব তৃণমূল। বিশেষ করে ভোট এলেই বিজেপি বিভাজনের ‘তাস’ খেলে বলে আঙুল তোলা হয়েছে জোড়াফুল শিবিরের পক্ষ থেকে। এমতাবস্থায়, কেন্দ্রের সরকারের আনা ওয়াকফ বিল নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে নিয়ে গেলেন রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল বিধায়করা।
Advertisement
কেন্দ্রের সরকার যে ওয়াকফ বিল আনতে চলেছে, তা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে তৃণমূল। এই সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে আলোচনা হয়। তৃণমূলের তরফে একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল। তার ভিত্তিতে সোম ও মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে আলোচনা হয়। সোমবারের অধিবেশনে হাজির থেকে ওয়াকফ বিলের বিরোধিতায় সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সুর বজায় রেখে মঙ্গলবারও বিধানসভার অধিবেশনে ওয়াকফ বিলের বিরোধিতা করেন তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মলয় ঘটক, অপূর্ব সরকার, সুকান্ত পাল, রফিকুর রহমান, মহম্মদ আলি প্রমুখ বিধায়ক। 
কিন্তু তৃণমূলের স্পষ্ট বক্তব্য, ওয়াকফ বিল যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বিরোধী। এই বিলের মধ্যে দিয়ে বিজেপি একটি ধর্মকে টার্গেট করে বদনাম করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এটা কোনওভাবেই প্রত্যাশিত নয়। সব ধর্মের মানুষকে সম্মান জানানো কর্তব্য। কিন্তু বিজেপি ক্রমাগত সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করে যাচ্ছে। রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, ধর্মকে যত আঘাত করবে, মানুষ তত বিজেপিকে জবাব দেবে। ধর্মের বিভাজন ঘটনানোর চেষ্টা করেছিল বিজেপি, শেষ ১০টি বিধানসভা উপনির্বাচনে মানুষ ওদের তাড়িয়ে দিয়েছে। মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির হিটলারি মনোভাব তাদের নেতাদের আচরণেই প্রকাশ পাচ্ছে। তাঁরা কোনোভাবেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে ভালোবাসে না। আমডাঙার তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বিজেপির হিন্দুত্বের জাগরণ ঘটুক। আল্লা ও হরি এক।
পাল্টা বিজেপির তরফে বিরোধী দলনেতা, অগ্নিমিত্রা পালরা বক্তব্য রাখেন। বিরেধী দলনেতা তাঁর বক্তব্যে রাজ্যে এনআরসি আনা হোক বলে দাবি তোলেন। এমনকী তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মরক্ষার দায়িত্ব যাঁর যাঁর।
তবে সরকার পক্ষ যখন বক্তব্য রাখছে, তখনই গেরুয়া উত্তরীয়ধারী বিজেপি বিধায়কদের বিধানসভার অধিবেশন কক্ষত্যাগের নিন্দা করেছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি পরিষদীয় দলের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, সরকারের বক্তব্য শোনার সৎ সাহস আপনাদের নেই কেন?
৬ ডিসেম্বর বিধানসভার অধিবেশন নেই। তা কেন না নেই, সেই প্রশ্ন তুলে বিজেপি বিধানসভার অধিবেশনে হইহট্টগোল করে। পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির যদি কিছু বলার থাকত তাহলে তাঁদের প্রতিনিধি কেন বিধানসভার কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এলেন না? প্রসঙ্গত, ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন। তাই বিভিন্ন জায়গায় ‘সংহতি ও সম্প্রীতি’ দিবসের কর্মসূচি নেওয়া হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ