Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

ধুঁকছে কৃষক, উদাসীন সরকার, মোদির মন্ত্রীকে বেনজির তোপ ধনকারের

ধুঁকছে কৃষক, উদাসীন সরকার, মোদির মন্ত্রীকে বেনজির তোপ ধনকারের
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
মুম্বই: কৃষক আন্দোলনের তুমুল চাপে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল কেন্দ্র। সেটা ছিল নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় ইনিংস। বাতিল করতে হয়েছিল বিতর্কিত তিন কৃষি আইন। কিন্তু ক্ষমতাসীন বিজেপি কি তার থেকে আদৌ শিক্ষা নিয়েছে? বিরোধীদের অভিযোগ, তৃতীয় মোদি সরকারের আমলেও কৃষকদের দুর্দশা অব্যাহত। তাঁদের দিল্লি ঢোকা আটকাতে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির সীমানায় প্রাচীর, রাস্তায় পেরেক বসানোর ছবি দেখেছে গোটা দেশ। ‘ডাবল ইঞ্জিন’ হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে আটক করা হয়েছে আন্দোলনরত কৃষকদের। এই অবস্থায় এবার কৃষকদের প্রতি মোদি সরকারের উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন স্বয়ং উপ রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকার। বাংলার রাজ্যপাল থাকাকালীন এবং উপ রাষ্ট্রপতি পদে ‘উন্নীত’ হওয়ার পরও যিনি মোদি সরকারের প্রতি ‘জো হুজুর’ মানসিকতা বজায় রেখেছিলেন, কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা সেই ধনকারই প্রকাশ্যে তুলোধোনা করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে। রাখঢাক না করেই বললেন, ‘দেশের কৃষকরা ধুঁকছেন। তাঁদের সঙ্গে এখনই আলোচনায় বসা উচিত সরকারের। এটা খুবই গুরুতর ইস্যু। বিষয়টিকে লঘু করে দেখার অর্থ, আমরা বাস্তবটা উপলব্ধি করতে পারছি না। আমাদের নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া ঠিক রাস্তায় নেই।’ 
Advertisement
চব্বিশের লোকসভা ভোটে কৃষক এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্ষোভের আঁচ টের পেয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার গরিমা ধুলোয় মিশে বিজেপি এখন শরিক নির্ভর। সেই আঁচ কি ‘ইয়েস ম্যান’ ধনকারকেও গ্রাস করল? বিভিন্ন সময় নিজেকে ‘কৃষক-পুত্র’ বলেই পরিচয় দেন তিনি। মঙ্গলবার মুম্বইয়ে কৃষি গবেষণা সংস্থা আইসিএআর-সিআইআরসিওটি-এর শতবর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে তাঁর আগেই বক্তব্য শেষ করেছিলেন শিবরাজ সিং চৌহান। তারপর বলতে উঠে বেনজরিভাবে ধনকার কৃষিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন, ‘পূর্বে কৃষকদের যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকারি খাতায় সেগুলি নথিভুক্ত করা হয়েছে তো? এখনও কেন আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে কৃষকদের সমস্যাগুলির সমাধান হল না? মাননীয় কৃষিমন্ত্রী, পূর্বের কৃষিমন্ত্রীরা কি কৃষকদের লিখিতভাবে কোনও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? যদি দিয়ে থাকেন, তাহলে সেসব প্রতিশ্রুতির কী হল?’
কৃষিমন্ত্রীকে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করার সঙ্গেই কৃষক ইস্যুতে মোদি সরকারের সমালোচনা শোনা গিয়েছে উপ রাষ্ট্রপতির ভাষণে। তাঁর ঠেস, ‘কৃষকদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ ক্রমেই কমছে। বিশ্বের দরবারে ভারতের সুনাম সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এমন ভাবমূর্তি সত্ত্বেও দেশের কৃষকদের বেহাল দশা কেন? তাঁদের ভুগতে হচ্ছে কেন? কৃষকরা ধুঁকছেন কেন? কৃষকদের অভাব-অভিযোগের মীমাংসা হওয়া প্রয়োজন। এই অবহেলা চলতে থাকলে দেশের জন্য তার ফল মারাত্মক হতে পারে। কোনও শক্তির ক্ষমতা নেই কৃষকদের কণ্ঠরোধ করে। কৃষকদের ধৈর্যচ্যুতি হলে দেশকে বিশাল মূল্য চোকাতে হবে।’
ফসল নষ্টের ক্ষতিপূরণ, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি স্বীকৃতি সহ বিভিন্ন দাবিতে ফের রাস্তায় নেমেছেন কৃষকরা। অথচ, তাঁদের উদ্বেগ কাটাতে মোদি সরকারের তরফে অর্থবহ আলোচনার কোনও উদ্যোগই চোখে পড়ছে না। কেন্দ্রের এই মানসিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ধনকার। তাঁর তোপ, ‘আমরা কি সরকার ও কৃষকদের মধ্যে কোনও প্রাচীর তৈরি করছি? কৃষকদের সঙ্গে কেন কোনও আলোচনা হচ্ছে না, সেটাই বুঝতে পারছি না।’ ধনকারের অভিযোগ, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চের (আইসিএআর) মতো সংস্থাগুলিরও কৃষকদের হাল ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা ‘কার্যকর’ থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। দেশের সর্বত্র এই সংস্থাগুলি ছড়িয়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও কৃষকদের অবস্থা সেই তিমিরেই।
সম্পর্কিত সংবাদ