নয়াদিল্লি: ড্রিমলাইনার বিপর্যয়ের পর থেকে যেন খারাপ সময় শুরু হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার। আমেদাবাদ দুর্ঘটনায় কোথায় খামতি ছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। গত একসপ্তাহ ধরে প্রতিদিন একের পর এক উড়ান বাতিল ঘিরে যাত্রীরোষও চরমে। এরই মাঝে এয়ার ইন্ডিয়ার তিন শীর্ষ আধিকারিককে দ্রুত সরানোর নির্দেশ দিল অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)। তালিকায় রয়েছেন এয়ার ইন্ডিয়ার ডিভিশনাল ভাইস প্রেসিডেন্টও। বিমানকর্মীদের কাজের সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। কোনও ক্ষেত্রে পাইলটদের ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ডিউটি দেওয়া হয়েছিল, কোথাও আবার টানা কাজ করানো হয়েছে। জোটেনি পর্যাপ্ত বিশ্রাম। এমনকী লাইসেন্স ছাড়াই বিমানে ডিউটি দেওয়া হয়েছে। ডিজিসিএর নির্দেশের পরই এয়ার ইন্ডিয়ার সাফ বার্তা, তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে তার রিপোর্ট জমা পড়বে।
শুক্রবারই এব্যাপারে নির্দেশ জারি করেছে নিয়ামক সংস্থা। জানা গিয়েছে, ডিজিসিএ-র কোপের মুখে পড়েছেন এয়ার ইন্ডিয়ার ডিভিশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট চূড়া সিং, চিফ ম্যানেজার, ডিওপিএস ক্রু শিডিউলিং পিঙ্কি মিত্তল ও ক্রু শিডিউলিং প্ল্যানিং বিভাগের পায়েল অরোরা। তাঁরা মূলত এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানকর্মীদের কাজের সূচি নির্ধারণের দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু সেই কাজেই লাগাতার গাফিলতির হাতেগরম প্রমাণ পেয়েছে ডিজিসিএ। ফলে কর্মীদের ডিউটি রোস্টারে দেখা গিয়েছে একাধিক অনিয়ম।
আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার কয়েকদিন আগেই এয়ার ইন্ডিয়াকে সতর্ক করেছিল ডিজিসিএ। নিরাপত্তা বিধি না মেনে তিনটি এয়ারবাসের উড়ান সচল রাখার অভিযোগ তোলা হয়। তদন্তে আরও নতুন এক তথ্য উঠে আসে। দেখা যায়, ১৬ ও ১৭ মে বেঙ্গালুরু থেকে লন্ডনগামী দু’টি বিমানে নির্ধারিত সময়ের পরও কাজ করেছেন বিমানের পাইলটরা। ড্যামেজ কন্ট্রোলে শুরুতেই নিজেদের গাফিলতির কথা স্বীকার করে নিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়া। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। ডিজিসিএর বক্তব্য, বিষয়টি জেনেও কেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট সংস্থা? তাছাড়া বিমান দু’টি কোনও জরুরি উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়নি। তাহলে কেন ওভারটাইম করানো হয়েছে পাইলট-ক্রুদের? এয়ার ইন্ডিয়ার অ্যাকাউন্টেবল ম্যানেজারকে শোকজ নোটিসও পাঠিয়েছে ডিজিসিএ। সাফ বার্তা দেওয়া হয়েছে, তিনজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত করে ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অন্যথায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে। এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ানের অনুমতিও বাতিল করা হতে পারে। তদন্ত চলাকালীন কোনওরকম কাজ করতে পারবেন না অভিযুক্ত কর্তারা।