Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চরম পথ বেছে নেওয়ার আগে খাসির মাংস-ভাতে লাঞ্চ সেরেছে দে পরিবার

চরম পথ বেছে নেওয়ার আগে খাসির মাংস-ভাতে লাঞ্চ সেরেছে দে পরিবার
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: ‘আর তো কয়েকটা ঘণ্টা! তারপর এই পৃথিবীতে কেউ থাকব না!’ ট্যাংরার শীলপাড়ার দে পরিবারের ছোট ছেলে প্রসূনের প্রস্তাব ছিল, ‘আজ দুপুরে (১৭ ফেব্রুয়ারি) একটু ভালো খাওয়া দাওয়া হোক, মেনু খাসির মাংস-ভাত। এটাই তো পরিবারের সবার সঙ্গে শেষ লাঞ্চ! দাদা, বৌদি, রোমি (প্রসূনের স্ত্রী) প্রস্তাবে সায় দিয়েছিলেন। বাচ্চারাও শুনে লাফিয়ে ওঠে। বাজার থেকে বাছাই করে ভালো রেওয়াজি মাংস নিয়ে এসেছিল দাদাই (প্রণয়)।’ পুলিসের জেরায় সেদিনের পারিবারিক ভোজের কাহিনী এভাবেই শুনিয়েছেন প্রসূন দে। দে বাড়ির সকলেই জানতেন প্রসূনের স্ত্রী রোমি ভালো মাংস রান্না করেন। তাই চরম পথ বেছে নেওয়ার আগে শেষবারের মতো রোমির হাতের রান্না করা মাংস খেতে চেয়েছিলেন সবাই। সেদিন দুপুরের ভোজ সেরে পরিবারের সবাই মিলে গল্পগুজব করছিলেন। কিন্তু আগামী পরিণতির কথা ভেবে একসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সবাই—জানিয়েছেন প্রসূন।

Advertisement

তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তাঁরা দুই ভাইই ভালোমন্দ খেতে  পছন্দ করতেন। বাড়িতে সেইমতো রান্নাও হতো। দুই ভাই পছন্দ করতেন খাসির মাংস, বাড়ির বউ আর বাচ্চারাও তাই। দে পরিবারের দুই ভাই সিদ্ধান্ত নেন, এই জগতের মায়া কাটিয়ে চলে যাওয়ার আগে সবাই মিলে যাবেন তাই সবাই মিলে একসঙ্গে শেষ খাওয়াদাওয়া করার। সেইমতো ১৭ তারিখ দুপুরে মেয়ে স্কুল থেকে ফেরার পর সকলেই একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেছিলেন। প্রত্যেকের প্লেটে মাংস ভাগ করে দিয়েছিলেন রোমি। ছেলে মেয়ে তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে উঠে নিজেদের ঘরে চলে যান। চারজন তখনও টেবিলে বসেছিলেন।  একসঙ্গে কত ভালো মুহূর্ত কাটিয়েছেন সেই নিয়ে আলোচনা চলে নিজেদের মধ্যে। তারপর দুই গৃহবধু নিজেদের স্বামীদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রসূনের কথায় খাওয়া দাওয়া সেরে সকলেই নিজের ঘরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। এরপর রোমি পায়েস রান্না করতে চলে যান। তদন্তকারীরা বারবার তাঁর কাছে জানতে চান, কেন পায়েসের মধ্যেই ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খেয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিলেন। দে পরিবারের ছোট ছেলের জবাব, প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন, সিলিং ফ্যানে ঝুলে সকলে আত্মঘাতী হবেন।  নিজের মেয়ে ও ভাইপোকে জোর করে সিলিং ফ্যানে গামছা বা ওড়না ঝুলিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে দেবেন। এরপর তাঁরা চারজন আলাদা আলাদা ঘরে ঝুলে পড়বেন। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তাঁদের ওজন। প্রসূনের বক্তব্য, চারজনের ওজন একশো কেজির কাছাকাছি। দাদার ওজন আবার ১৩০  কেজি। তাই সিলিং ফ্যান তাঁদের ভার নিতে পারবে না। তাই সিদ্ধান্ত নেন সবচেয়ে সেফ হলো ঘুমের ওষুধ খাওয়া।  দাদা যেহেতু ঘুমের ওষুধ খেতেন, তাই সেগুলি বাড়িতেই ছিল। প্রণয় ঘুমের ওষুধ বের করে সোজা চলে যান ঠাকুরঘরে।  সেখানেই পায়েসের সঙ্গে তা 
মিশিয়ে দেন।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ