


সংবাদদাতা, তেহট্ট: তেহট্ট থানার আরশিগঞ্জে প্রতিবছর বৈশাখ মাসে পিটুলি গাছ ঘিরে সন্ন্যাসী মেলায় ভক্তরা ভিড় জমান। প্রায় ১০০বছর আগে এই মেলা শুরু হয়। সেই থেকে প্রতিবছর ১৬ বৈশাখ এই মেলা আয়োজিত হয়। আরশিগঞ্জের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও এখানে মানত করেন।
এই মেলার প্রচলন ঘিরে রয়েছে এক কাহিনী। কথিত আছে, ১০০বছর আগে কোনও এক সন্ন্যাসী জঙ্গলে ঘেরা এই পিটুলি গাছের তলায় সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। এলাকার বাসিন্দা মলয় মণ্ডল বলেন, সেসময় আমার ঠাকুরদাদা দুলালচন্দ্র মণ্ডল, গ্রামের সন্তোষ বিশ্বাস সহ অনেকে তাঁদের ছোটবেলায় মাঠে গোরু চরাতে যেতেন। একদিন তাঁদের একটি গোরু দলছাড়া হয়ে ওই জঙ্গলে চলে যায়। তাঁরা গোরু খুঁজতে ওই জঙ্গলে গিয়ে দেখেন, পিটুলিতলায় একজন সন্ন্যাসী গভীর ধ্যানে মগ্ন। তা দেখে তাঁরা ভয় পেয়ে গ্রামে পালিয়ে যান। গ্রামের মহন্ত উপেন্দ্রনাথ বৈরাগ্য ছেলেদের থেকে সব কথা শুনে তাদের ভয় ভাঙানোর জন্য জঙ্গলে নিয়ে যান। কিন্তু তখন আর সেখানে ওই সন্ন্যাসীর দেখা মেলেনি। মহন্ত বুঝতে পারেন, ওই সন্ন্যাসী সিদ্ধপুরুষ। ১৬বৈশাখ ওই সন্ন্যাসীর দেখা মিলেছিল। সেজন্য প্রতিবছর ১৬বৈশাখ ওই পিটুলিতলায় সন্ন্যাসী মেলা হয়। সেইসঙ্গে তিনদিন ধরে সন্ন্যাসী ঠাকুরের পুজো হয়। এই পিটুলি গাছকে ঘিরে আছে অশ্বত্থ ও বটগাছ। এলাকার মানুষ ভক্তিভরে ওই গাছকে পুজো করেন।
স্থানীয়রা জানান, জনশ্রুতি অনুযায়ী, পাশের গ্রাম রঘুনাথপুরের আনু ঘোষের ছেলেকে সাপে ছোবল মেরেছিল। সেসময় এলাকায় উন্নত চিকিৎসা সুযোগ ছিল না। আনু ঘোষ ছেলেকে পিটুলিতলায় রেখে যান। পরদিন সকালে তাঁর ছেলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে। এঘটনায় সন্ন্যাসী ঠাকুরের প্রতি মানুষের বিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়।
পুজোর তিনদিন এই জায়গায় ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। গ্রামের মানুষ তিনদিন ধরে বাড়িতে রান্না বন্ধ করে পিটুলিতলায় রেঁধে খাওয়াদাওয়া করেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এই সন্ন্যাসী ঠাকুর নিয়ে অনেক কাহিনী আছে। শোনা যায়, তেহট্টের এক ব্যক্তি কোমরের ব্যথায় কাবু হয়ে পড়েছিলেন। সন্ন্যাসী ঠাকুরের কাছে মানত করে তাঁর কোমরের ব্যথা কমে যায়। মানত পূরণে তিনি ৬০কেজি চাল রান্নার মতো বড় কড়াই সন্ন্যাসীতলায় দিয়েছেন। তেহট্টের বাসিন্দা সনৎ মোদক বলেন, বাবা-ঠাকুরদার কাছে শুনেছি, পিটুলিতলার সন্ন্যাসী ঠাকুর জাগ্রত। অনেকের মানত পূরণ হয়েছে। আমি প্রতিবার সন্ন্যাসী ঠাকুরের পুজো দিতে আসি।
জিৎপুরের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক নবেন্দু ভৌমিক বলেন, আমি প্রতিবার সন্ন্যাসী ঠাকুরের পুজো দিতে আসি। এত ভিড় হয় যে, আমরা সকালবেলায় গিয়েও বিকেলের আগে পুজো দিতে পারি না।