নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বরো চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে চেয়ে পুরসভায় চিঠি পাঠালেন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার দেবলীনা বিশ্বাস। কলকাতা পুরসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের (আলিপুর অঞ্চল) এই কাউন্সিলার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তিনি ৯ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান। সেই পদ ছাড়তে চেয়ে পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়কে চিঠি দিয়েছেন দেবলীনা। যদিও মালা রায় জানিয়েছেন, এই চিঠি গ্রহণ করার আইনি অধিকার তাঁর নেই।
মঙ্গলবার দেওয়া ওই চিঠিতে দেবলীনা লিখেছেন, ‘আমি বরো কমিটি ৯-এর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। শুধু কাউন্সিলার হিসাবে কাজ করব। দয়া করে আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেন।’ কিন্তু আচমকা কী এমন ঘটল যে পদত্যাগ করতে হল? তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা দানা বেঁধেছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল ভালো হয়নি। সদ্যসমাপ্ত ভোটের ফলাফলে এই ওয়ার্ডে প্রায় ৬০০০ ভোটে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। সেই কারণেই দেবলীনা পদত্যাগ করতে চেয়েছেন হয়তো।
তবে দেবলীনা বলছেন, ‘এই ওয়ার্ডে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটেও পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। ২০১৯ কিংবা ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও তৃণমূল এই ওয়ার্ডে হেরেছে। বিধানসভা নির্বাচনে আমার ওয়ার্ডে পিছিয়ে থাকার কারণে আমি পদত্যাগ করছি না। দলের তরফে গত কয়েকদিন ধরে আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে। যা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। মানসিক চাপ আর সহ্য করতে পারছি না। তাই বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। তবে যেহেতু এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, তাই যতদিন পুরভোট না হচ্ছে, ততদিন আমি মানুষকে পরিষেবা দিয়ে যাব। জনতার কাজ করব। আমি দলেই আছি। তবে বরো চেয়ারপার্সন পদে থাকা সম্ভব নয়।’
এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় বলেন, ‘এমন কোনো পদত্যাগপত্র আমি হাতে পাইনি। তবে কোনো বরো চেয়ারম্যানের পদত্যাগপত্র আইন অনুযায়ী গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। পুরসভার আইন অনুসারে তাঁদের নিয়োগ চেয়ারপার্সন করেন না। তাই পদত্যাগপত্র এলেও তা আমি গ্রহণ করতে পারব না।’