সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গে সড়ক, ট্রেন ও বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও চাঙ্গা করা হবে। সোমবার বর্ধমান রোড আরওবি’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি দেশের স্বার্থে ‘চিকেন নেক’ শিলিগুড়ির সুরক্ষা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের জন্য দু’হাত তুলে উন্নয়ন করা হবে। এজন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে। মিলবে ডবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়নের স্বাদ। সেসঙ্গে তিনি বিগত তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন।
শিলান্যাসের দীর্ঘ আট বছর পর এদিন বর্ধমান রোড উড়ালপুলের উদ্বোধন হল। অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গের জন্য ঢেলে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ জোর কাদমে চলছে। সাতটি রাস্তা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয়েছে। ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে জমি চেয়েছে রেল। হিলি থেকে কোচবিহার পর্যন্ত রেলকে জমি দেওয়া হবে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফকে জমি দেওয়া হয়েছে। হাসিমারা এয়ারপোর্টকে বাণিজ্যিক করার জন্য জমি চাওয়া হয়েছে। তাও দেওয়া হবে। বাগডোগরা বিমানবন্দর সম্প্রসারণে আরও জমি দেওয়া হবে।
এখানেই ইতি টানেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বক্তব্যে ‘চিনেক নেক’ শিলিগুড়ির গুরুত্ব তুলে ধরেন। বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার এই শহর। পাশেই প্রতিবেশী রাজ্য অসম, মেঘালয়। আরএকদিকে সিকিম। রাষ্ট্রের সুরক্ষার প্রশ্নে চিকেন নেকের গুরুত্ব অপরিসীম। শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে আরও উন্নয়ন হবে। এজন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বাজেট বাড়িয়ে ডবল করা হয়েছে। ওই দপ্তরের বাজেট করা হয়েছে ২২০০ কোটি টাকা। জিটিএ’র বাজেটও দ্বিগুণ করা হয়েছে। মিনি সচিবালয় উত্তরকন্যাকে কর্মচঞ্চল করার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, এই উড়ালপুলের মধ্য দিয়ে বাংলায় ডবল ইঞ্জিনের সরকারের স্বাদ পেলেন। রাজ্যে আরও ৫০০টি আরওবি বা রেল ওভার ব্রিজ তৈরি করা হবে। তাতে রাজ্য ও রেলে মন্ত্রক ৫০ শতাংশ করে অর্থ দেবে। রাজ্য ইতিমধ্যে অর্থ বরাদ্দ করেছে। ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের আরও সুযোগ সুবিধা আপনারা দেখতে পাবেন। উত্তরকন্যায় অধিকাংশ সরকারি দপ্তর স্থানান্তরিত করা হবে। যাতে উত্তরবঙ্গবাসীকে আর কলকাতায় ছুটতে না হয়।
প্রসঙ্গত, শিলিগুড়ি শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে ২০১৮ সালে বর্ধমান রোড আরওবি নির্মাণ প্রকল্পের শিলান্যাস হয়। কিন্তু, কিছু জটিলতার জেরে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ ব্যাহত হয়। এজন্য বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সময় কাটিয়েছে আগের সরকার। এটাই এই প্রকল্পের জটিলতার কারণ। এদিনের অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, অর্থ ও পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, এমপি রাজু বিস্তা সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
• বর্ধমান রোড উড়ালপুল উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী। রয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক, আনন্দময় বর্মন, দুর্গা মুর্মু প্রমুখ। - নিজস্ব চিত্র।