


দুবাই: এশিয়া কাপে অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো ছুটছে ভারত। সুপার ফোরে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশকে ৪১ রানে হারানোয় ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত সূর্যকুমার যাদবদের। জয়ের নায়ক অভিষেক শর্মা। তাঁর ৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদে বুধবার প্রথমে ব্যাট করে ভারত তুলেছিল ৬ উইকেটে ১৬৮। জবাবে বাংলাদেশ থামে ১২৭ রানে।
যদিও এদিনের জয়টা মসৃণ ছিল না। কোচ গৌতম গম্ভীরের সঠিক পরিকল্পনার অভাব চোখে পড়ল। সুপার ফোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অযথা ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন কেন করলেন তিনি, তা বুঝে ওঠা গেল না। ‘যখন রোগই নেই, অযথা ডাক্তার কেন ডাকব?’ আর যদি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভাবনাই হয়, সেটা গ্রুপ পর্বে সেরে ফেলা উচিত ছিল। কোন যুক্তিতে সঞ্জু স্যামসনের মতো বিধ্বংসী ব্যাটারকে ডাগ আউটেই বসিয়ে রাখা হল? সেখানে তাঁর আগে ক্রিজে আসা অক্ষর প্যাটেলের সংগ্রহ ১৫ বলে অপরাজিত ১০। যাই হোক, দল জেতায় এই সব তেতো প্রশ্নের জবাব দিতে হবে না কোচকে। তবে অভিষেক শর্মার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। ১৬৮ রানের মধ্যে তাঁর একারই স্কোর ৭৫। ৩৭ বলের এই বিধ্বংসী ইনিংস সাজানো ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায়। পাশাপাশি স্পিনাররাও ভারতের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন।
যদিও শুরুতে অভিষেককে সেভাবে হাত খুলতে দিচ্ছিলেন না বাংলাদেশি বোলাররা। এই পর্বে জীবনদানও পান। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ৩ ওভারে ভারতের স্কোর ছিল ১৭। তখন অগ্রাসী মেজাজ ধারণ করেন শুভমান। অন্যপ্রান্ত থেকে সাপোর্ট পেয়ে অভিষেকও গিয়ার পরিবর্তন করেন। তারই ফলস্বরূপ পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে ভারতের স্কোর বিনা উইকেটে ৭২। তবে পরের ওভারেই শুভমানকে (২৯) ফিরেয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান রিশাদ। তিনে নামা শিবমও (২) চূড়ান্ত ব্যর্থ। উল্টোদিকে সমানে উইকেট পড়লেও অভিষেক শর্মার ঝড় অবশ্য থামেনি। মাত্র ২৫ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। কিন্তু ১২তম ওভারে ক্যাপ্টেন সূর্যকুমারের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে সেঞ্চুরি থেকে ২৫ রান দূরে রান-আউট অভিষেক। এরপর সূর্যকুমার (৫) ও তিলক (৫) ব্যর্থ হলে চাপে পড়ে যায় ভারত। শেষদিকে হার্দিকের (৩৮) ব্যাটে ভদ্রস্ত জায়গায় পৌঁছয় দল।
পক্ষান্তরে, লিটন দাসের চোট থাকায় বুধবার বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিলেন জাকের আলি। তবে রান তাড়ায় তাঁর দল চূড়ান্ত ফ্লপ। দলগত ৪ রানেই প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। বুমরাহর শিকার তানজিদ (১)। যদিও পারভেজকে সঙ্গে নিয়ে এই ধাক্কা কিছুটা সামলে নিয়েছিলেন সাইফ। পারভেজ (২১) আউট হওয়ার পরও দলকে টানছিলেন তিনি। ৩৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন সাইফ। তারজন্য ভারতীয় ফিল্ডারদেরও কৃতিত্ব প্রাপ্য। তাঁর চারটি ক্যাচ ফস্কেছেন তিলক, দুবেরা। সুযোগের সদ্ব্যবহারে যদিও ব্যর্থ তিনি। ৬৯ রানের ইনিংস খেলে সইফ আউট হতেই বাংলাদেশের হার নিশ্চিত হয়ে যায়। ভারতের কুলদীপ তিনটি উইকেট নিয়েছেন।
স্কোর: ভারত- অভিষেক রান আউট ৭৫, শুভমান ক তানজিম বো রিশাদ ২৯, শিবম ক তৌহিদ বো রিশাদ ২, সূর্যকুমার ক জাকের বো মুস্তাফিজুর ৫, হার্দিক ক তানজিদবো সইফুদ্দিন ৩৮, তিলক ক সাইফ বো তানজিম ৫, অক্ষর অপরাজিত ১০, অতিরিক্ত ৪, মোট ১৬৮-৬। বোলিং: তানজিম ৪-০-২৯-১, নাসুম ৪-০-৩৪-০, মুস্তাফিজুর ৪-০-৩৩-১, সইফুদ্দিন ৩-০-৩৭-১, রিশাদ ৩-০-২৭-২, সাইফ ২-০-৭-০।
বাংলাদেশ- সাইফ ক অক্ষর বো বুমরাহ ৬৯, তানজিদ ক শিবম বো বুমরাহ ১, পারভেজ ক অভিষেক বো কুলদীপ ২১, তৌহিদ ক অভিষেক বো অক্ষর ৭, শামিম বো বরুণ ০, জাকের রান আউট (কুলদীপ)৪, সাইফুদ্দিন ক তিলক বো বরুণ ৪, রিশাদ ক তিলক বো কুলদীপ ২, তানজিম বো কুলদীপ ০, নাসুম অপরাজিত ৪, মুস্তাফিজুর ক অক্ষর বো তিলক ৬, অতিরিক্ত ৯, মোট (১৯.৩ ওভারে) ১২৭। বোলিং: হার্দিক ২-০-১৪-০, বুমরাহ ৪-০-১৮-২, বরুণ ৪-০-২৯-২, কুলদীপ ৪-০-১৮-৩, অক্ষর ৪-০-৩৭-১, শিবম ১-০-১০-০, তিলক ০.৩-০-১-১।
ভারত জয়ী ৪১ রানে।