Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিপদের দিনে পাশে নেই দেব ও জুন! অভিযোগ তৃণমূল নেতাকর্মীদের

একসময় যাঁদের জেতাতে জীবন বাজি রেখে লড়েছিলেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। আজ তাঁদেরই একাংশ বিপদের মুখে অসহায় বোধ করছেন।

বিপদের দিনে পাশে নেই দেব ও জুন! অভিযোগ তৃণমূল নেতাকর্মীদের
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: একসময় যাঁদের জেতাতে জীবন বাজি রেখে লড়েছিলেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। আজ তাঁদেরই একাংশ বিপদের মুখে অসহায় বোধ করছেন। কেউ ঘরছাড়া, কেউ আবার বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে জেলের ভাত খাচ্ছেন। অথচ তাঁদের পাশে দলের জনপ্রিয় দুই তারকা সাংসদকে না দাঁড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এই আবহে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর ও ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের দুই তারকা সাংসদ দেব ও জুন মালিয়াকে ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে তৃণমূলের একাংশের মধ্যে।রাজনৈতিক মহলের দাবি, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের সংগঠন চাপে পড়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরও তার ব্যতিক্রম নয়। দলের বহু নেতাকর্মী আইনি ও রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে খোশ মেজাজে ঘুরতে ফিরতে দেখা যাচ্ছে বলেই অভিযোগ।

Advertisement

জানা গিয়েছে, সোমবার দিল্লিতে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের সাংসদ দেব এবং মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া। বৈঠকটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রকাশ্যে কেউই মুখ খোলেননি। মঙ্গলবার কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন দুই সাংসদ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, দলের কর্মীরা যখন নানা সমস্যায় জর্জরিত, তখন তাঁদের খোঁজ নিতে কেন দেখা যাচ্ছে না জনপ্রতিনিধিদের? পশ্চিম মেদিনীপুর দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন ঘটে। ২০১৪ সালে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন চলচ্চিত্র তারকা দেব। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিশেষ আস্থাভাজন হিসেবে তিনি দ্রুত রাজনৈতিক গুরুত্ব লাভ করেন। দলের বহু পুরনো নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংগঠনের জন্য কাজ করেও তাঁরা যে গুরুত্ব পাননি, একজন তারকা হিসেবে দেব সেই গুরুত্ব সহজেই পেয়েছেন। একইভাবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর কেন্দ্রে অভিনেত্রী জুন মালিয়াকে প্রার্থী করে তৃণমূল। সে সময় রাজ্যজুড়ে প্রবল রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেও জুন মালিয়ার জয়ের জন্য দিনরাত এক করে কাজ করেছিলেন তৃণমূলের কর্মীরা। বাড়ি বাড়ি প্রচার থেকে বুথ সামলানো, সর্বত্র সক্রিয় ছিলেন দলের নীচুতলার নেতারা। কিন্তু বর্তমানে তাঁদের অনেকেই নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক বিক্ষুব্ধ নেতা বলেন, এঁরা সব পেয়েছেন। সাংসদ হয়েছেন, সম্মান পেয়েছেন, ক্ষমতা পেয়েছেন। কিন্তু যাঁরা তাঁদের জন্য লড়াই করলেন, তাঁদের পাশে আজ আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। এদিকে মঙ্গলবার কোলাঘাটে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের সাংসদ দেব। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ফের ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বিষয়টি উত্থাপন করেন। দেব জানান, দীর্ঘদিনের এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি তিনি তুলেছেন। অন্যদিকে, মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া বলেন, আগে কাজ করতে পারছিলাম না। এখন আশা করি ভালো করে কাজ করতে পারব। মেদিনীপুরে যাব। 
তৃণমূলের মেদিনীপুর শহরাঞ্চলের নেতা মহম্মদ রফিক বলেন, গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলে। মানুষ সবকিছু দেখছে এবং বুঝছে। সময় এলে মানুষই তার জবাব দেবে। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত। তিনি বলেন, এটা ওদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য উন্নয়ন। রাজ্যজুড়ে উন্নয়নের জোয়ার বইবে।   কোলাঘাটে প্রাশাসনিক বৈঠকে সাংসদ জুন মালিয়া ও দেব।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ