নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বিরাটি স্টেশন লাগোয়া সাট্টার ঠেকে হানা দিয়ে নগদ টাকা, সাট্টার প্যাড সহ নানা সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দা বাহিনী। ধৃতদের নাম বিশ্বজিৎ সাহা, অমিত চৌধুরী, বিশ্বজিৎ দেব ও সঞ্জয় মণ্ডল। তাদের বাড়ি নিমতা থানার দুর্গানগর ও বিরাটি এলাকায়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযান চলাকালীন দুই অভিযুক্ত লোকনাথ সাউ ও চৈতন্য সাহা পালিয়েছে। তাদের নামও এফআইআরে রয়েছে। চৈতন্য সাহাকে নিয়ে নিমতায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, এই ব্যক্তি এলাকায় ‘সাট্টা কিং’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই চৈতন্য সাহা এমন কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
নিমতা থানার বিরাটি স্টেশন লাগোয়া অঞ্চল সাট্টা ও লোটোর ঠেকে ভরে গিয়েছে। স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাশে রিকশ স্ট্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে সাট্টার ঠেক চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই ঠেকে হানা দেয় কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ ও নিমতা থানা। পুলিস জানিয়েছে, ওই ঠেক থেকে চারজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ২৭ হাজার ২৫০ টাকা, সাট্টার টোকেন, স্লিপ ও সাট্টার প্যাড উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্টেশন লাগোয়া ওই সাট্টার ঠেক ছাড়াও বিরাটি স্টেশন থেকে নিমতাগামী রাস্তায় অটো স্ট্যান্ড লাগোয়া বাজারে বিশাল সাট্টার ঠেক রয়েছে। এছাড়াও বিরাটি বাজার, গোলবাগান, ফতুল্লাপুর, মাঝেরহাট, আলিপুর, নন্দননগর, পাটনা ঠাকুরতলা, পাঠানপুর মোড়, ফিঙে, ৬ নম্বর রেল গেট, দুর্গানগর সহ উত্তর দমদম পুরসভা জুড়ে ১০০’র বেশি সাট্টার ঠেক রয়েছে। পাশাপাশি আলাদাভাবে চলছে লোটোর ঠেক।
এই সব সাট্টার ঠেকে মূলত গরিব মানুষ ও রিকশচালকরা টাকা লাগিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। সাট্টার মূল কারবারি ১৭০ জনেরও বেশি কর্মী রেখে গোটা সাম্রাজ্য চালাচ্ছে। প্রতিটি জায়গায় সাট্টার প্যাড পৌঁছে দেওয়া, টাকা সংগ্রহ সহ নানা কাজ করছে ‘রানার’রা। এই রানারদের যাতায়াতের জন্য বাইক ও তেলের ব্যবস্থাও রয়েছে। জানা গিয়েছে, উত্তর দমদম পুরসভা এলাকায় ওই কারবারির নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন ১২ থেকে ২০ লক্ষ টাকার সাট্টার খেলা হয়।
গোয়েন্দাদের দাবি, উত্তর দমদম পুরসভা এলাকায় সাট্টার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে চৈতন্য সাহার হাতে। যদিও চৈতন্য সাহা বলেন, আমার সঙ্গে সাট্টার কোনও যোগ নেই। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। কেন পুলিস এফআইআরে নাম রাখল, সেটাই বড় প্রশ্ন। আমার নানা ধরনের ব্যবসা আছে। কসমেটিক্স, নেইল আর্ট, নির্মাণ সহ বিভিন্ন ব্যবসা চালান তিনি। তবে সাট্টার লোকজন বিপদে পড়লে আমার কাছে আসে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের পরিবারের সদস্যরা আমার কাছে এসেছিলেন। কেউ বিপদে পড়লে মানুষ হিসেবে পাশে তো দাঁড়াতে হবে। এতগুলি ছেলে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। তারা কোথায় যাবে?
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার গোয়েন্দাবাহিনী নাগেরবাজার মোড়ে জুয়ার ঠেকে হানা দিয়ে ২৫ হাজার ৫৪০ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে
বলে খবর।