Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

জিএসটি হার কমলেও খুচরো বাজারে তেল-চিনি-আটার দাম অপরিবর্তিত! কারণ নিয়ে চর্চা ব্যবসায়ী মহলে

চড়া মূল্যবৃদ্ধির কোপ থেকে মানুষকে স্বস্তি দিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রীর উপর জিএসটি’র হার কমানো হয়েছে।

জিএসটি হার কমলেও খুচরো বাজারে তেল-চিনি-আটার দাম অপরিবর্তিত! কারণ নিয়ে চর্চা ব্যবসায়ী মহলে
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চড়া মূল্যবৃদ্ধির কোপ থেকে মানুষকে স্বস্তি দিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রীর উপর জিএসটি’র হার কমানো হয়েছে। কিন্তু ভোজ্য তেল, চিনি, আটার মতো বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম খুচরো বাজারে কমার কোনও লক্ষণ নেই, বরং বাড়ছে। কয়েক মাস আগে খুচরো বাজারে চিনির দাম প্রতি কেজিতে ৪০-এর  ঘরে ছিল। এখন তা ৫০ টাকা ছুঁয়েছে। ভোজ্য তেলের চড়া দামও অব্যাহত। সাধারণ মানের লুজ সর্ষের তেলের দাম কেজিতে ১৬০ টাকার আশপাশে। কিছুটা ভালো মানের তেল হলে তার দাম ২০০ টাকা! সয়াবিন-রাইস ব্র্যান তেলের দাম কেজিতে ১৫০-১৫৫ টাকার আশপাশে রয়েছে। প্রায় একই দাম পাম তেলের। সূর্যমুখী তেলের দাম ১৭০ টাকার আশপাশে। খুচরো বিক্রেতারা বলছেন, ভোজ্য তেলের উপর জিএসটি’র হার ৫ শতাংশই রয়েছে। কোনও পরিবর্তন হয়নি। ফলে দাম আগে থেকে চড়া থাকায় সেই অবস্থাই চলছে। সর্ষের বীজের  দাম বেশি থাকার জন্যই মূলত সর্ষের তেলের দাম বেড়ে আছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। সর্ষের বীজ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত রবি মরশুমে নতুন সর্ষে উঠলে দাম কিছুটা কমে। এবার তা হয়নি বলে বিক্রেতারা দাবি করছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষক স্বার্থে সর্ষের ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য বৃদ্ধি করা এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছে ব্যবসায়ী মহল। 

Advertisement

সর্ষে এবং রাইস ব্র্যান ছাড়া অন্য তেলগুলি মূলত বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। গত জুন মাসে আমদানি করা তেলের দাম কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার আমদানি শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে। তাতেও বাজারে কোনও প্রভাব পড়েনি। ব্যবসায়ী মহলের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন, সূর্যমুখী, পাম তেলের দাম বেড়েছে। সাধারণ মানের আটার দাম অনেকদিন ধরে ৪০ টাকার উপরে আছে। সেখান থেকে কমছে না। শোধিত চিনির উপর জিএসটি-র হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হলেও খুচরো বাজারে তার কোনও প্রভাব পড়ে নি। পোস্তা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কর্তা বিশ্বনাথ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘ভালো মানের চিনির পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা বেড়ে ৪৬ টাকা হয়েছে।’ তবে পোস্তা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সীতানাথ ঘোষ অবশ্য দাবি করেছেন, পাইকারি বাজারে চিনির দাম আগের তুলনায় খুব একটা বাড়েনি। গত এপ্রিলে দাম ছিল সাড়ে ৪২ টাকা। এখন হয়েছে ৪৩ টাকা ৭০ পয়সা। তবে পাইকারি বাজারে সর্ষের তেলের দর অনেকটা কমেছে বলেই তাঁর দাবি। 
চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে হিসেবে আখের ফলন কম হওয়াকেই অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। আরও কয়েকটি কারণ নিয়ে কথা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। তাছাড়া পেট্রলের সঙ্গে মেশানোর জন্য ইথাইল অ্যালকোহলের চাহিদা বেড়েছে। জানা গিয়েছে, আখ থেকে ইথাইল অ্যালকোহল উৎপাদন করার উপর জোর দিতে গিয়ে চিনির জোগান কমেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ