নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: পালাবদলের পর সরকারি নথি থেকে বাদ পড়েছে তৃণমূল সরকারের ‘বিশ্ববাংলা লোগো’। সল্টলেক যুবভারতী স্টেডিয়ামের সামনে বিশ্ববাংলা ভাস্কর্যও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এবার বদলে গেল নিউটাউনের ‘বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে’র নাম। বিশ্ববাংলা শব্দটি বাদ দিয়ে নাম হয়েছে, কনভেনশন সেন্টার। তবে বিশ্ববাংলা গেটের নাম এখনও অক্ষতই রয়েছে। তার বদল হয়নি। ওই মোড়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে চর্চা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, অভয়া ক্রসিং নামকরণ হোক। কেউ আবার বলছেন, পুরনো নারকেল বাগান মোড়ের নামেই ফিরুক।
এই কনভেনশন সেন্টার দেশের অন্যতম বড়ো এবং অত্যাধুনিক ব্যবস্থাসম্পন্ন। জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করেছিলেন। বিশ্ববাংলা গেট থেকে ইকোপার্কের দিকে যাওয়ার পথে সার্ভিস রোডের ধারে এই কনভেনশন সেন্টারটি অবস্থিত। এটি প্রায় দশতলা ভবন। যেখানে একটি মূল অডিটোরিয়াম, দু’টি মিনি অডিটোরিয়াম, চারটি ব্যাঙ্কোয়েট কাম একজিবিশন হল রয়েছে। মূল অডিটোরিয়ামে একসঙ্গে ৩ হাজার দর্শক বসার ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও পার্কিং স্পেস, একজিকিউটিভ লাউঞ্জ, পুল সবই আছে। এই কনভেনশন সেন্টারটি হিডকো দ্বারা পরিচালিত। সরকারি এবং বেসরকারি নানা ধরনের অনুষ্ঠান হয়।
কনভেনশন সেন্টারে প্রবেশ পথের বাইরে লেখা ছিল, ‘বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টার’। কিন্তু বর্তমানে তা ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তার বদলে বিশ্ববাংলাকে বাদ দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘কনভেনশন সেন্টার’। সম্প্রতি এই কনভেনশন সেন্টারে বিধায়কদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান হয়েছে। সেই উপলক্ষ্যে সরকারিভাবেই একাধিক হোর্ডিং ও ব্যানার ব্যবহার হয়েছিল। সেখানেও লেখা ছিল, ‘নিউটাউন কনভেনশন সেন্টার’। অর্থাৎ বিশ্ববাংলা বাদ। তবে এ বিষয়ে হিডকো কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে নিউটাউনের নারকেল বাগান মোড়েই তৈরি হয়েছে ঝুলন্ত গেট। ২০২৭ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করেন। সেখানে প্রায় ৮২ ফুট উচ্চতায় ঝুলন্ত রেস্তরাঁ সহ কাফেটেরিয়া, গ্যালারি প্রভৃতি রয়েছে। শহরের অন্যতম আকর্ষণ বিশ্ববাংলা গেট। সেখানে ঝুলন্ত ‘ব’ লেখা গ্লোব ছিল। সেটি তৃণমূল জমানাতেই খুলে যায়। তবে এই গেটের নামের পাশে এখনও ফলক রয়েছে। তাতে লেখা বিশ্ববাংলা গেট। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই জায়গার নাম অনুযায়ী, নারকেল বাগান মোড়ের দাবি করেছেন। কারণ স্থানীয়দের অনেকে নারকেল বাগান মোড়ই বলেন।
(ছবি: রির্পোটার্স পিক্স)