সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: পঞ্চায়েত ভোটে জিতে এককভাবে অঞ্চল দখল করলেও প্রতিটি বিধানসভা ও লোকসভার ভোটে বিরোধীদের থেকে পিছিয়ে পড়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে এবার বিধানসভা ভোটে লিড দিতে আগে থেকেই কোমর বেঁধেছে তৃণমূলের কোচবিহার-২ ব্লকের খাগড়াবাড়ি অঞ্চল নেতৃত্ব। ভোটের রণকৌশল তৈরি করতে পঞ্চায়েত সদস্য, বুথ সভাপতি ও অঞ্চল নেতৃত্বকে নিয়ে চলতি সপ্তাহেই রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে নেতৃত্ব। অন্দরের খবর, কোন কৌশলে, কীভাবে ঘাটতি মিটিয়ে এই অঞ্চলে বিধানসভা ভোটে দলীয় প্রার্থীকে লিড দেওয়া যায়, সেই নিয়েই শাসকদলের ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠক ছিল। ফলে এবারের ভোটে কোচবিহার শহর সংলগ্ন খাগড়বাড়িতে দলীয় প্রার্থীকে লিড দেওয়া অঞ্চল নেতৃত্বের কাছে একপ্রকার অগ্নিপরীক্ষা, তা বলাই বাহুল্য।
একুশের বিধানসভা ভোটে ও চব্বিশের লোকসভা ভোটে শুধুমাত্র খাগড়াবাড়ি অঞ্চল থেকেই সাত হাজারের বেশি ভোটে লিড পেয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। ফলে এবার আগে থেকেই এই অঞ্চলে বিজেপির ভোট ব্যাংকে থাবা বসাতে মরিয়া অঞ্চল তৃণমূলের নেতারা। যদিও বিজেপির কটাক্ষ, তৃণমূল যতই চেষ্টা করুক কোনো লাভ হবে না। বিজেপির লিড কেউ আটকাতে পারবে না ওরা। কোচবিহার উত্তর বিধানসভার সব থেকে বেশি ভোট রয়েছে খাগড়াবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এখান ভোটার প্রায় ৩২ হাজার। আছে ৩২টি বুথ। এখানে পঞ্চায়েত ভোটে শাসকদল প্রতিবারেই এককভাবে অঞ্চল দখল করলেও লোকসভা বা বিধানসভা ভোটে লিড পায় না তারা। গত পঞ্চায়েত ভোটে ৩০টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জেতে ২১টিতে। অন্যদিকে, বিজেপি ছ’টি, বামফ্রন্ট দু’টি ও একটি আসনে নির্দল প্রার্থী জয়ী হন। গ্রাম পঞ্চায়েত শাসকদলের দখলে থাকলেও বিধানসভা বা লোকসভা ভোটে এই অঞ্চলে কেন পিছিয়ে পরে দল সেটা নিয়েই ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে খাগড়াবাড়ি অঞ্চল তৃণমূলের চেয়ারম্যান দীপক অধিকারী বলেন, আসন্ন বিধানসভা ভোটে আমাদের প্রার্থীকে লিড দেব, এই প্রতিজ্ঞা আমরা করেছি। তারজন্য কিছু রণনীতি স্থির করা হয়েছে। ওসব নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলা যাবে না। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি বিরাজ বসু পাল্টা বলেন, তৃণমূল যতই চেষ্টা করুক খাগড়াবাড়িতে কোনোদিন ওরা লিড দিতে পাবে না। ওদের দুর্নীতি মানুষ ধরে ফেলেছে। আমাদের প্রার্থীই লিড পাবেন।