নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে নদীয়া জেলায় কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ১৭টি বিধানসভার মধ্যে ১৪টি বিজেপির দখলে। দুই দলের ভোটের পার্থক্য ৫ লক্ষের বেশি। উজাড় করে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন নদীয়ার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা। নদীয়া দক্ষিণের বিধানসভাগুলোতে বিজেপির জয়ের মার্জিনেই যা স্পষ্ট। তারপরেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় জায়গা হল না নদীয়া জেলার বিজেপি বিধায়কদের।
এবার নির্বাচনে নদীয়ার বিজেপি বিধায়করা তাক লাগানো ফলাফল করেছিলেন। ৫০ থেকে ৮০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন একাধিক বিধায়ক। তারপরেও নদীয়ার কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা থেকে বিজেপি বিধায়কদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না হওয়ায় হতাশ বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।
রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, ‘নদীয়ার দুই সাংগঠনিক জেলায় খুব ভালো হয়েছে। আমরা নদীয়া দক্ষিণের সবকটা আসন জিতেছি। আশা ছিল দুই সাংগঠনিক জেলা থেকেই মন্ত্রী পাব। অনেকের প্রশাসন সামলানোর অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা রয়েছে। একাধিকবার বিধায়ক হয়েছেন। আমি আশাবাদী আমার সাংগঠনিক জেলা আগামীতে মন্ত্রীত্ব পাবে।’ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নদীয়া জেলায় তৃণমূল পেয়েছে ১৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩৯৫ ভোট। অন্যদিকে বিজেপি পেয়েছে ১৮ লক্ষ ৭৩ হাজার ২১৫ ভোট। শাসক ও বিরোধী এই দুই দলের ভোটের পার্থক্য ৫ লক্ষ ৬ হাজার ৮২০। কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক জয়ী হয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৬১ ভোটে, কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত বিশ্বাস ৬০ হাজার ৮৯৯ এবং রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক অসীমকুমার বিশ্বাস ৬৪ হাজার ৪৬৪ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে করিমপুর, তেহট্ট, নাকাশিপাড়া, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, নবদ্বীপ, রানাঘাট দক্ষিণ, শান্তিপুরের মতো আসন। নদীয়া জেলা থেকে দীর্ঘদিনের মন্ত্রীত্ব সামলেছেন তৃণমূলের বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান নেতা উজ্জ্বল বিশ্বাস। রাজনৈতিক মহলের দাবি, তৃণমূল আমলে দীর্ঘ ১৫ বছর নদীয়া জেলা মন্ত্রী পেলেও উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। মন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সাধন ঘোষের কাছে। বিজেপির এক কর্মীর কথায়, ‘এতদিন মন্ত্রী থেকেও নদীয়া জেলার লাভ হয়নি। এবার তো আমরা মন্ত্রীও পেলাম না। মতুয়া এলাকা থেকে একজন মন্ত্রী হলে ভালো হতো।’