Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুই ছেলে থাকলেও দেখে না, বৃদ্ধার সহায় পুলিশকর্মী ও বিজেপি নেতা

৭০ বছরের কাননবালা দাসের পাশে দাঁড়ালেন পুলিশকর্মী ও বিজেপি নেতা। অসহায় বৃদ্ধার জন্য ব্যবস্থা করছেন বৃদ্ধাশ্রমে। বিস্তারিত পড়ুন।

দুই ছেলে থাকলেও দেখে না, বৃদ্ধার সহায় পুলিশকর্মী ও বিজেপি নেতা
  • ২৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শেষ বয়সে সন্তানরাই ভরসা হবে। এই স্বপ্ন সব মা-বাবাই দেখেন। কাননবালা দাসও স্বাভাবিক প্রবৃত্তিতেই সে স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে ৭০ বছর বয়সে এসে দেখলেন স্বপ্ন ভেঙে চুরচুর। দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেতে দেয় না দুই ছেলেই। মাথা গোঁজার ছাদটুকু পর্যন্ত দেয় না। বৃদ্ধ মা তাঁদের কাছে বোঝা। ফলে এই বয়সে লোকের বাড়ি কাজ করতে যেতে হয়েছিল। শরীর অশক্ত হয়ে পড়ায় সে কাজ ছাড়তে হয়। শেষপর্যন্ত না খেতে পেয়ে, না আশ্রয় পেয়ে একরাশ অভিমান নিয়ে হাবড়ার চোংদার দিঘিরপাড়ের ঘর ছেড়ে, সংসার ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন ৭০ বছরের কাননবালা দাস।

Advertisement

তারপর উদ্দেশ্যহীনভাবে রাস্তায় ঘুরছিলেন। শেষপর্যন্ত আশ্রয় নেন হাবড়া হাসপাতাল চত্বরে। কাননবালাদেবী জানান, তাঁর দুই ছেলে। বড়ো ছেলে অনিলকৃষ্ণ দাস, ছোটো ছেলের নাম বাদল দাস। এই দুই পুত্রের কেউই বৃদ্ধা মায়ের দায়িত্ব নিতে চান না। কেউই তাঁকে খাবার দেন না। বাড়িতেও থাকতেও দিতে চান না। তিনদিন আগে বাড়ি ছেড়ে বেরন তিনি। হাতে একটি লাঠি শুধু সম্বল। হাসপাতালের এক কোণে জড়োসড়ো হয়ে বসেছিলেন। এক পুলিশকর্মী তা দেখতে পান। বৃদ্ধার চোখে জল দেখে করুণা হয়। গিয়ে কথা বলেন। তারপর নিষ্ঠুর জীবনের গল্প শুনে চমকে যান। সেই পুলিশকর্মীই এরপর কিছু খাবার, পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দেন। তাঁর কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন বিজেপির স্থানীয় এক নেতা সত্যজিৎ সাহা। 
বুধবার রাতে সত্যজিৎ ওরফে পাপাই হাসপাতালে যান কাননবালার সঙ্গে কথা বলতে। তাঁর অসহায় অবস্থার কথা শুনে হাসপাতাল চত্বরে ফেলে আসতে পারেননি। নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন। চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যান। সত্যজিৎবাবু জানান, শুক্রবার বাণীপুরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে কাননদেবীর থাকার ব্যবস্থা করবেন। কাননবালা বলেন, ‘আমার দুই ছেলের কেউই আমাকে দেখে না। খেতে দেয় না। বাড়িতে থাকতে দেয় না। আর ওই বাড়িতে ফিরতে চাই না। ওদের অবহেলায় খুব কষ্ট পেয়েছি।’ সত্যজিৎবাবু বলেন, ‘উনি আমার ঠাকুমার বয়সি। ওঁর ছেলেদের ব্যবহারের কথা শুনে কষ্ট পেয়ে আমার বাড়ি নিয়ে এসেছি।’ কাননবালাদেবীর দুই ছেলের কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ