সংবাদদাতা, বালুরঘাট: ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি মিললেও আত্রেয়ী নদীর উপর এখনো সেতু পেলেন না বালুরঘাটের কালিকাপুর, ডাকরা ফুলঘড়া সহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ। রঘুনাথপুর-কালিকাপুর সংযোগকারী সেতু না হওয়ায় হতাশ তাঁরা। নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শহরে আসেন হাজার হাজার লোক। বর্ষায় সাঁকো দিয়ে পার হওয়া যায় না। জলের তোড়ে সাঁকো ভেঙে যায় কিংবা ভেসে যায়। তখন ভরসা নৌকা। অভিযোগ, বিধায়ক হওয়ার আগে ভোটের প্রচারে এসে বুধরাই টুডু এখানে সেতু তৈরির আশ্বাস দিলেও তা পূরণ করতে পারেননি। এলাকাবাসীর দাবি, বিধায়ক হওয়ার পর এলাকায় বুধরাইয়ের দেখা মেলেনি। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এব্যাপারে উদ্যোগ নিলেও সেতু হয়নি। যা নিয়ে ভোটের আগে তৃণমূল-বিজেপির চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
তপনের বিজেপি বিধায়ক বুধরাই বলেন, বছরে যে টাকা পাই, তা দিয়ে ওখানে সেতু তৈরি করতে পারব না। ওই এলাকায় সেতু তৈরি করার জন্য জেলাশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি। কিন্তু শাসকদল সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেয়নি। আগামীতে রাজ্যে বিজেপি সরকার এলে সেখানে সেতু তৈরি করা হবে। বিজেপির দাবি, কোনো কাজের উদ্যোগ নিলে তৃণমূল করতে দেয় না। এবিষয়ে বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের অরূপ সরকার বলেন, বিধায়ক কাজ করতে চাইলে কে বাধা দেবে? আসলে তিনি কিছু করতে পারেননি। ভোটে জেতার পর বিজেপি বিধায়ক ওই এলাকায় কোনোদিন যাননি। মানুষের সমস্যা নিয়েও ভাবেননি। তৃণমূল নেতা অরূপের দাবি, সেতু নির্মাণের জন্য আমরা ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।
ওই এলাকা বালুরঘাট ব্লকের অন্তর্গত হলেও তপন বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। গ্রাম থেকে শহরে যোগাযোগের জন্য গ্রামবাসীরা নিজেরাই সাঁকো তৈরি করেছেন।বালুরঘাটের চকভৃগু গ্রাম পঞ্চায়েত ও বোয়ালদার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৮টি গ্রামের মানুষ কালিকাপুরের সাঁকো পেরিয়ে রঘুনাথপুর হয়ে শহরে আসেন। সাঁকো ভেঙে গেলে প্রায় ১০ কিমি ঘুরে পাগলিগঞ্জ ব্রিজ কিংবা ৭ কিমি ঘুরে সরোজরঞ্জন সেতু দিয়ে শহরে আসতে হয় তাঁদের। শুখা মরশুমে সমস্যা না থাকলেও বর্ষায় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
কালিকাপুরের সোনা মণ্ডল বলেন, বর্ষা এলেই আমরা ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হই। সেতুর দাবি আমাদের আজও পূরণ হল না। প্রার্থীরা ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও এখনো সেতু হয়নি। বিজেপি বিধায়কও আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু হয়নি। কবে হবে জানি না। আরেক বাসিন্দা দ্বিজেন মল্লিক বলেন, সাঁকো পার হলেই হাসপাতাল। কিন্তু রাতে কেউ অসুস্থ হলে কয়েক কিমি ঘুরে যেতে হয়। -নিজস্ব চিত্র