মেলবোর্ন: ঐতিহাসিক মেলবোর্ন পার্ক বহু ক্লাসিক ম্যাচের সাক্ষী। রবিবার আরও একটা মহারণের প্রতীক্ষায় রড লেভার এরিনা। রবিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে কার্লোস আলকারাজের সামনে নোভাক জকোভিচ। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মহারণ। বিশ্বের ১ বনাম ৪ নম্বরের দ্বৈরথ রীতিমতো উত্তেজনার বারুদে ঠাসা। এই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে পা রেখেছেন আলকারাজ। উইম্বলডনের সেন্টার কোর্ট থেকে লাল সুরকির রোলা গাঁরো কিংবা ইউএস ওপেনের হার্ড কোর্টে ইতিমধ্যে বিজয়কেতন উড়িয়েছেন স্প্যানিশ তারকা। তিনটি আসরেই দু’বার করে খেতাব জেতা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ট্রফি ক্যাবিনেটে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এখনও অধরা। অন্যদিকে, মেলবোর্ন পার্ক জকোভিচের প্রিয় মৃগয়াক্ষেত্র। রেকর্ড দশবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা হয়ে গিয়েছে তাঁর। সুপার সানডে’তে আলকারাজকে বশ মানাতে পারলে ২৫তম গ্ল্যান্ড স্ল্যামের মাইলস্টোনও স্পর্শ করবেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি। তবে চ্যালেঞ্জটা সহজ নয়। সবচেয়ে বড় বাধা বয়স। আটত্রিশের জোকারকে যে সামলাতে হবে ২২ বছর বয়সির তারুণ্যের তেজ! দীর্ঘ দু’দশকের বিস্তৃত সাম্রাজ্যে ভাগ বসাচ্ছেন আলকারাজ, সিনাররা। তবু কেরিয়ারের গোধূলিবেলায় জ্বলে ওঠার আপ্রাণ প্রয়াসে ভর করেই বাজিমাতের আশায় সার্বিয়ান মহারথী।
২০০৮ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন জকোভিচ। আলকারাজ তখন পাঁচ বছরের খুদে। দু’জনের বয়সের ব্যবধান ১৬! তবু নোভাক ক্লান্তিহীন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাঙ্কারে ছেলেবেলা কেটেছে তাঁর। স্নায়ু যেন ইস্পাত কঠিন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও শেষ বুলেট নিক্ষেপে সিদ্ধহস্ত। ৩৮ বছরেও অফুরান এনার্জির ভাণ্ডার। সেমি-ফাইনালে ম্যারাথন লড়াইয়ে দ্বিতীয় বাছাই জানিক সিনারকে পরাস্ত করাই তার দৃষ্টান্ত। খেতাবি লড়াইয়ের আগে জোকারের মন্তব্য, ‘কোর্টে সবটুকু উজাড় করে দিয়ে জেতার রাস্তা খুঁজে নিতে হয়। ফাইনালেও সেই চেষ্টাই থাকবে। তবে এই মুহূর্তে আলকারাজ অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ।’
সেমি-ফাইনালের ২৪ ঘণ্টা পরেই শিরোপাযুদ্ধে নামছেন আলকারাজ ও জকোভিচ। পর্যাপ্ত রিকভারি টাইম পাননি কেউই। এরই মধ্যে আলকারাজের চোট নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন তাঁর সাপোর্ট টিম। শেষ চারে আলেকজান্ডার জেরেভকে বশ মানালেও পেশির চোট ভোগাচ্ছে স্প্যানিশ তরুণকে। তার উপর প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের ধকল দ্রুত কাটানো সহজ নয়। আর সেটাই কেড়ে নিতে পারে ৩৮ বছরের জোকারের বিরুদ্ধে তাঁর বয়সের অ্যাডভান্টেজ। ম্যাচের আগে সোশ্যাল সাইটে জকোভিচের পোস্ট নিয়েও জোর চর্চা। নোভাক লিখেছেন, ‘৩৮ বছর ২৫৫ দিন।’ আসলে পরিসংখ্যানই যে জানান দিচ্ছে, সবচেয়ে বেশি বয়সি প্রতিযোগী হিসেবে মেলবোর্ন পার্কে খেতাবি যুদ্ধে নামবেন জোকার।