


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: বর্ষার শুরুতে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে বাংলার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের এক রা, ‘টাকা নেই!’ অথচ সেকথা খাটে না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাধের কর্মসূচিগুলির ক্ষেত্রে। কোটি কোটি টাকা উড়ে যায় মাত্র একদিনেই। একসপ্তাহ আগে দেশজুড়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে পালিত হয়েছে মোদির এমন এক ‘নজিরবিহীন উদ্যোগ’, ১১তম আন্তর্জাতিক যোগদিবস। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগেই রাষ্ট্রসঙ্ঘ ২১ জুনকে ‘আন্তর্জাতিক যোগদিবস’ ঘোষণা করেছে বলে গর্বের শেষ নেই কেন্দ্রীয় সরকারের। তাই সেই অনুষ্ঠানের ব্যয়ও উত্তরোত্তর বেড়েছে। গত এক বছরে প্রায় তিনগুণ। ৪৩ কোটি ২০ লক্ষ থেকে সোজা ১২০ কোটি টাকায় পৌঁছে গিয়েছে জাঁকজমকের খতিয়ান। হবে না কেন, এবার যে ১১ বছর পূর্তি! সম্প্রতি তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে করা এক প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য সামনে এনেছে খোদ মোদি সরকারই।
গত বছরও (২০২৪) আরটিআইতে এই অনুষ্ঠানের খরচ জানতে চেয়েছিলেন সমাজকর্মী অজয় বাসুদেব বোস। সেবার আয়ূষ মন্ত্রকের জবাব ছিল, প্রস্তাবিত বাজেট ৪৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। আর এবছর একই প্রশ্নের উত্তরে জানানো হয়েছে, অর্থমন্ত্রকের এক্সপেন্ডিচার ডিপার্টমেন্ট ‘১১তম আন্তর্জাতিক যোগদিবস’ এবং তার এক দশক পূর্তি উপলক্ষ্যে ১০টি প্রধান অনুষ্ঠানের জন্য অনুমোদন করেছে ১২০ কোটি টাকা। এর আগে ‘পরীক্ষা পে চর্চা’তেও মোদি সরকারের ছ’বছরে ৭৯ কোটি টাকা খরচ সামনে এনেছিলেন অজয়বাবু।
হিসেব বলছে, ২০১৫ থেকে ২০১৯—এই পাঁচ বছরেই ‘যোগদিবসে’র পিছনে মোট ১৪০ কোটি ব্যয় করেছে মোদি সরকার। বিষয়টি নিয়ে এমনিতে বিতর্কের শেষ নেই। এবছর এই বিশেষ দিনের প্রচারে এনডিএর প্রধান শরিক চন্দ্রবাবু নাইডুর অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ৩০০ কোটি টাকা খরচ করেছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। ২০২২ সালে মাইসুরু প্যালেসে ‘যোগদিবস’ পালন করেছিলেন মোদি। সেবার শুধু রাস্তাঘাটের পিছনেই কর্ণাটকের বিজেপি প্রশাসনের ব্যয় হয় ৫৬ কোটি টাকা।
এসবে কোটি কোটি ব্যয় করলেও বাংলার ১ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া মেটানোর ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করে না কেন্দ্র। শুধু ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পটি বন্ধ রেখে আটকে রয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। আবাস থেকে সড়ক যোজনা, এমনকী জল জীবন মিশন মিলিয়ে বকেয়া আরও ১৩ হাজার কোটি। এনিয়ে তীব্র বিষোদ্গার করেছেন রাজ্যসভার তৃণমূল দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর সাফ কথা, ‘জনগণের করের টাকায় গত ১১ বছর ধরে নিজের প্রচার করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। অথচ বাংলার মানুষের প্রাপ্য বছরের পর বছর আটকে। এটা অনৈতিক শুধু নয়, অন্যায়ও।’ কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন বিশ্ব ক্ষুধাসূচকে ভারতের ১০৫তম স্থানে থাকার কথা। তিনি বলেন, ‘লক্ষ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার, সেখানে সরকার জনগণের করের টাকায় প্রচার অনুষ্ঠান-বিদেশ সফর করতে ব্যস্ত!’ বাংলার পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারও একমত। বলেন, ‘যোগ-বিয়োগে মোদি সরকার কত টাকা খরচ করেছে, তার থেকেও বড় বিষয় হল বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়। যেখানে প্রত্যেকদিনই বিবিধ খাতের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা অপচয় হয়। সেখানে বছরের পর বছর বাংলার গরিব মানুষকে বঞ্চিত করে চলেছে কেন্দ্র। এটা কেমন বর্বরতা?’