সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বর্ষা শুরু হতেই ইস্পাতনগরীর নিকাশি ও জঞ্জাল ব্যবস্থাপনার কঙ্কালসার চেহারা এক লহমায় ঠিকরে বেরিয়ে এল। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর বড়ো ঘোষণা যে কেবলই অলীক স্বপ্ন তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন দুর্গাপুরবাসী। সপ্তাহে ছ’দিন স্তূপীকৃত জঞ্জাল উপচে পড়ছে রাস্তায়, নিকাশি নালা সাফাই তো দূরঅস্ত! বর্জ্য অপসারণে পুরসভার চরম গাফিলতিতে এবার ক্ষোভে ফুটছেন একাধিক ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
জঞ্জালের আঁতুড়ঘর দুর্গাপুরের ২১ নম্বর ওয়ার্ড। অভিযোগ, তপোবন কালচারাল ক্লাবের দুর্গামন্দির সংলগ্ন আবাসিক এলাকাকে একপ্রকার স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড বানিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ময়লা ও বর্জ্য বহনকারী ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকছে আবাসনের দরজায়। খোলা নর্দমা আর ফাঁকা জায়গায় জঞ্জাল জমতে জমতে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। বর্ষার মুখে এই জায়গাটি এখন মশার বাড়বাড়ন্ত ও ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন একের পর এক বাসিন্দা। স্থানীয় শিক্ষিকা ঋতুপর্ণা সরকারের অভিযোগ, ঘরের সামনে যখন-তখন ময়লা পড়ে থাকে। বৃষ্টিতে নিকাশি নালা বন্ধ হয়ে জল জমে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। বিধায়ককে ফোন না করলে কোনো কাজই হয় না। কাজেই বর্ষার মুখে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। এনিয়ে কিছুটা দায়সারা সুরে বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই জানান, শঙ্করপুরের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে রিসাইক্লিংয়ের জন্য ময়লা নিয়ে যাওয়া হয়, তা জমে থাকার কথা নয়। খোঁজ নিয়ে দেখছি।অন্যদিকে, দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম এটিকে একটি ‘সেকেন্ডারি পয়েন্ট’ হিসেবে দাবি করে জানান, এটি একটি সেকেন্ডারি কালেকশন পয়েন্ট, যেখানে আশপাশের ওয়ার্ডের বর্জ্য সাময়িকভাবে রাখা হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা সরানো হয়। অভিযোগ মেলার পরই এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
যদিও ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকায় সাধারণ মানুষের সমস্যার প্রতি প্রশাসনের কোনো জবাবদিহি নেই। তৃণমূল পুরসভা নির্বাচন করেনি, বিজেপিও উদ্যোগী নয়। জনগণের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই, তাঁরা ব্যস্ত শুধু পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিটিংয়ে ও বিরোধী নেতাদের দমনে। অবিলম্বে পুরসভার নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন।
অবশেষে দীর্ঘ টালবাহানা ও তীব্র জনরোষের মুখে পড়ে তড়িঘড়ি জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজে নামে দুর্গাপুর নগর নিগম। তবে বর্ষার মুখে এই ঘটনায় শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উঠেছে প্রশ্ন।