নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে লাগাতার সাফাই অভিযানের জেরে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমছে। গত তিন বছরের তুলনায় এবার প্রকোপের হার অনেকটাই কম। বর্ষার আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে লাগাতার সাফাই অভিযানের জেরে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমছে। গত তিন বছরের তুলনায় এবার প্রকোপের হার অনেকটাই কম। বর্ষার আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ঝাড়গ্রাম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভুবনচন্দ্র হাঁসদা বলেন, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমছে। বর্ষার আগেই শহরে ও জেলার যেসব জায়গায় নোংরা জল জমে, সেখানে সাফাই করা হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার করবেন।
ঝাড়গ্রাম জেলায় মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির জেরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমাতে জেলাজুড়ে ধারাবাহিক সাফাই অভিযান চলছে। যারজেরে চলতি বছরে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই কম। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র দু’জন। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখনও পর্যন্ত ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫০জন। তাঁদের বেশিরভাগই পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে এসে ভর্তি হয়েছেন। জেলায় গত দেড় বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দু’হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। জেলার স্বাস্থ্যদপ্তর তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশও করেছিল। ফলস্বরূপ, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর লাগাম টানতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়। আগের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া হচ্ছে আগাম সতর্কতা। ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় উপর জোর দেওয়া শুরু হয়। শহর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নোংরা জল যাতে না জমে তারজন্য প্রচার শুরু হয়।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে দু’হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। মার্চ মাস পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৮। গত বছর মার্চ পর্যন্ত ১৭জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বছর শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ২৬০। এইবছর মার্চ মাস পর্যন্ত সেই সংখ্যা কমে হয়েছে দুই। ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধে গ্রামাঞ্চলে ভিআরপিরা ও শহরে পুরকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিদর্শন করছেন। পুরসভার মোট ৬৬টি সার্ভে টিম রয়েছে। যারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিদর্শন চালান। মশার লার্ভা নাশক স্প্রে করা হয়। ভেক্টর সার্ভে টিম ও ভেক্টর কন্ট্রোল টিম জেলাজুড়ে কাজ করছে। আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর ও জেলা পরিষদ যৌথভাবে এই কাজ করছে। তারজেরেই জেলায় ক্রমশ ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমতে শুরু করেছে।
ঝাড়গ্রাম জেলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অনুরূপ পাখিরা বলেন, চলতি বছরে মার্চ মাস পর্যন্ত হাসপাতালে ৫০জন ম্যালেরিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত বছর এই সময়ে সংখ্যাটা ছিল শতাধিক। যাঁরা ভর্তি হয়েছেন তাঁদের বেশিরভাগই পার্শ্ববর্তী জেলার বাসিন্দা।