সংবাদদাতা, কান্দি: বর্ষার আগেই ভরা গ্রীষ্মে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে ভরতপুর-১ ব্লক এলাকায়। ইতিমধ্যে এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তিনজন ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ছ’জন। ফলে উদ্বিগ্ন ব্লক স্বাস্থ্যদপ্তর। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করা হয়েছে। তবে উভয় ক্ষেত্রের আক্রান্তরা বাইরে থেকে এসেছেন বলে জানা গিয়েছে। ভরতপুর-১ ব্লক স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্য ছিল মোট ৫৫। পাশাপাশি ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছিলেন ১০ জন। তবে এবছর বর্ষা শুরু হওয়ার আগে থেকেই ওই দু’টি রোগের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্ক বেড়েছে বাসিন্দাদের। স্বাস্থ্যদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১০ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে তিনজনই ভরতপুর গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া ভরতপুর ও সাহাপুর গ্রামে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছেন ছ’জন। গত ১৫ দিনের মধ্যে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে দু’টি ক্ষেত্রেই রোগ বাইরে থেকে এসেছে বলে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে রিপোর্টে বলা হয়েছে।
ভরতপুর-১ ব্লক স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশ জনই ভিন রাজ্যে কাজ করেন। বাড়ি ফেরার আগেই তাঁরা ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। একটি ক্ষেত্রে স্বামীর পর তাঁর স্ত্রীও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এনিয়ে ব্লক স্বাস্থ্যদপ্তর সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেছে। এই কাজে আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের লাগানো হয়েছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্ক করছেন। ভরতপুর-১ ব্লক স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বর্ষার অনেক আগেই এমন পরিস্থিতি খুবই চিন্তার বিষয়। দু’টি ক্ষেত্রেই রোগীরা বাইরে থেকে এলেও তা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেইজন্য বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। তবে এলাকার কিছু জায়গায় জল জমে রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এনিয়ে ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে কথাও হয়েছে। যাতে নিকাশিনালা সহ কোথাও জল জমতে না পারে, তার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।ভরতপুর-১ ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ইতিমধ্যে এলাকার সমস্ত পঞ্চায়েত সদস্যদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নালা পরিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চায়েত গুলিকে নিয়ে দ্রুত আলোচনা করা হবে।