সোমনাথ বসু, কলকাতা: ‘প্রশংসা হল চর্বির মত। কোনো কাজে আসে না, শুধু শরীর ফুলিয়ে দেয়’— একটি বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় সংলাপ যা মোহন বাগান সুপার জায়ান্টের সঙ্গে অত্যন্ত মানানসই। গত কয়েক বছর ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশংসিত হয়েছে পালতোলা নৌকা। কিন্তু আত্মবিশ্লেষণ হয়নি। যার প্রয়োজন অবশ্যই ছিল। এবারও তা না হলে বিপদ বাড়বে। মরশুমের পর মরশুম দেশের সেরা লিগ না পেলে সদস্য-সমর্থকরা আপনাদের ক্ষমা করবে না।
বৃহস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিগের শেষ রাউন্ডের ম্যাচ খেলে লোবেরার দল। প্রতিপক্ষ দিল্লি। ২-১ গোলে জিতলেও সেদিনই আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গল। স্বাভাবিকভাবেই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের হতাশা ঝরে পড়ে ফুটবলারদের উপর। বিশ্বের সব দেশে এমনটাই হয়। কিন্তু সেটাই মেনে নিতে পারেননি টম আলড্রেড। তিনি তেড়ে গেলেন অনুরাগীর দিকে! বুঝুন, কী ঔদ্ধত্য!
কোটি কোটি টাকা দিয়ে দল গড়লেই চ্যাম্পিয়ন হতে হবে, এমন দিব্যি কেউ কোনোদিন দেয়নি। হওয়া সম্ভবও নয়। কিন্তু মোহন বাগানের কাছে দ্বিতীয় কিংবা দশম স্থানের গুরুত্ব একই। এবার আসা যাক, কেন খেতাব পেল না লোবেরার দল? বিশ্লেষণে উঠে আসছে হাফ ডজন কারণ। সেগুলি হল— ১) সেটপিসে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারা ২) গ্রেগ স্টুয়ার্টের যোগ্য পরিবর্ত আনতে না পারা ৩) রবসনের মত আধা ফিট ফুটবলারকে বয়ে বেড়ানো ৪) লিস্টন-মনবীর জুটি ভেঙে দেওয়া, ৫) কামিংস ও পেত্রাতোসের অফ ফর্ম ৬) লিগ চলাকালীন দুম করে ফুটবলারদের দীর্ঘমেয়াদি ছুটি দেওয়া। তাই এবার দল ঢেলে সাজানো উচিত। নতুন মরশুমে ফুটবলার চয়নের আগে অভিজ্ঞ ক্লাব কর্তাদের পরামর্শ নিলে আখেরে লাভই হবে। এছাড়া দলের অনুশীলন ফিরিয়ে নিয়ে আসা উচিত ক্লাবের মাঠে। সেক্ষেত্রে সমর্থকদের আবেগের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন ফুটবলাররা। মোহন বাগান মাঠ যথেষ্ট ভালো। কর্তাদের চেষ্টায় হকি এখন এখানে খেলা হয় না। তা সত্ত্বেও অনুশীলন হয় সল্টলেক স্টেডিয়ামের প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে!
সূত্রের খবর, আগামী মরশুমে নতুন কোচ দায়িত্ব নেবেন মোহন বাগানের। লোবেরায় স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ম্যানেজমেন্টের। শোনা যাচ্ছে, আন্তোনিও হাবাস এবং পেড্রো বেনালি এই দায়িত্বের দৌড়ে রয়েছেন। পাশাপাশি ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল কামিংস, পেত্রাতোস ও রবসনকে। নতুন কোচ নিয়োগ করার পর তাঁর পরামর্শমাফিক দল গঠন হবে।
সদ্যসমাপ্ত আইএসএলের গতিপ্রকৃতি দেখলে বোঝা যাবে, এবারের লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জায়গায় অবশ্যই ছিল মোহন বাগান। কিন্তু বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মত সুযোগ নষ্ট করে দলকে ডুবিয়েছেন অ্যাটাকাররা। প্রচুর অর্থ ব্যয় করে দল তৈরি করলেও তাই আসেনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। আর লোবেরাই বা কী করেছেন? ফুটবলারদের ভুলত্রুটি শোধরানোর দায়িত্ব তো তাঁরই। গোটা প্রতিযোগিতায় প্রায় দেড়শোর মত সেটপিস মুভ পেয়ে মোহন বাগান কাজে লাগিয়েছে মাত্র একটি। তাহলে তো সেই কোচকে ভালো বলা সম্ভব নয়।