নয়াদিল্লি: আর কোনো রাখঢাক নয়। পাকিস্তানের কাছ থেকে সরাসরি স্বাধীনতা চেয়ে বসলেন অধিকৃত কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীরা। সেই ৬ জুন থেকে স্বাধিকারের দাবিতে আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (এএসি) ছত্রছায়ায় রাওয়ালাকোটের ইদগাহ ময়দানে ধর্নায় বসেছেন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। মঙ্গলবার সেই বিক্ষোভ ১৫ দিন পার করল। আর সেই উপলক্ষ্যে বিক্ষোভে শামিল হলেন বহু মহিলা ও শিশু। তাঁদের হাতে ছিল ‘পাকিস্তানি বাহিনী দূর হটো’ লেখা প্ল্যাকার্ড। এমনকী পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপের দাবিও জানানো হয়।
রাওয়ালাকোট থেকে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জেলায় জেলায়। তারার খেল, শধোনোটি জেলার মোড়ে মোড়ে স্কুল পড়ুয়ারাও স্বাধীনতার দাবি জানাচ্ছে। মান্দোলের রাস্তার দখল নিয়েছেন মহিলারা। আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির শীর্ষ নেতা সর্দার আমন খানের হুঁশিয়ারি, ‘হানাদাররা যদি এখনও অত্যাচার চালিয়ে যায়, তবে অধিকৃত কাশ্মীর থেকে পুরো পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থাকে উপড়ে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে।’ অতীতে পাকিস্তানি সেনার অত্যাচারের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি। বলেন, বাঙালিদের উপর অত্যাচার চালিয়ে সেই ভূখণ্ড খুইয়েছে পাকিস্তান। এখনও বালোচ এবং পাস্তুনদের উপর তারা অত্যাচার চালাচ্ছে। এরপরই তাঁর ঘোষণা, ‘কাশ্মীরিরা যদি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বসবাস করতে না পারে, তবে পাকিস্তানি সেনাও এখানে থাকতে পারবে না।’ ইতিমধ্যে ৩৮ দফা দাবিপত্র প্রশাসনকে জমা দিয়েছে এএসি। সেই দাবি না মানলে রাওয়ালকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত মিছিল করা হবে। নেপাল এবং বাংলাদেশের মতোই পাকিস্তানি বাহিনীকে উচ্ছেদ করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদে এএসির শাসন কায়েম বলে জানিয়েছেন সর্দার আমন খান। পিওকে’র নীলম ভ্যালিতে রাস্তা অবরোধ করে চলছে বিক্ষোভ। -এএফপি