সংবাদদাতা, রামপুরহাট: প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তারাপীঠ মন্দিরকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বা বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচনা করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিতে চলেছে মন্দির কমিটি। আগামী শনিবার তারাপীঠ সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক বৈঠকের আগে সকাল ১১টা নাগাদ তিনি মন্দিরে পুজো দিতে আসবেন। এই সফরকালেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব তুলে ধরা হবে। মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিশ্ব মানচিত্রে এই মহাসাধনাপীঠের স্থান পাওয়া উচিত। মুখ্যমন্ত্রীকে দেবী তারার প্রতিকৃতি, পদ্মফুলের মালা এবং প্রবীণ সেবাইত ও গবেষক প্রবোধ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘তারাপীঠের ইতিহাস’ বইটি উপহার দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হবে। পাশাপাশি প্রাচীন এই মন্দিরকে হেরিটেজ হিসেবে বিবেচনা করার আর্জি জানানো হবে। প্রবোধবাবুর মতে, বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেলে তারাপীঠের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৬৯৬ সালে রাজা রামজীবন চৌধুরী এই মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করেন। ১৭০১সালে তাঁর পুত্র রামচন্দ্র তা সম্পন্ন করে মহাশ্মশান থেকে মায়ের ব্রহ্মময়ী শিলামূর্তি নবনির্মিত মন্দিরে স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১২২৫ বঙ্গাব্দে মল্লারপুরের জমিদার জগন্নাথ রায় বর্তমান মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পুণ্যার্থী এই সাধনাস্থলে আসেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তারাপীঠের রথযাত্রা সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে ৫ লক্ষ টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু হেরিটেজ স্বীকৃতিই নয়, তারাপীঠের সামগ্রিক পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নেও একগুচ্ছ দাবি জানানো হবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। নিখিলবাবু বলেন, মন্দির ও মহাশ্মশান সংলগ্ন মজে যাওয়া দ্বারকা নদ সংস্কার এবং পুণ্যার্থীদের স্নানের সুবিধার্থে সারাবছর জল ধরে রাখতে চেকড্যাম নির্মাণের জন্য দাবি জানানো হবে।
এছাড়া তারাপীঠে বেড়ানোর কোনো জায়গা নেই। মন্দিরে পুজো দিয়ে হোটেলবন্দি থাকতে হয় পর্যটকদের। যদিও পূর্বতন সরকারের আমলে নদের একধারের কিছুটা অংশ বাঁধিয়ে সৌন্দর্যায়ন করা হয়। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নতুন করে দ্বারকা নদের দু’পাড় বাঁধিয়ে সৌন্দর্যায়ন, সেইসঙ্গে পর্যটক ও শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য পার্ক তৈরি এবং মন্দির কমিটির খেলার মাঠে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য বলা হবে। এছাড়া পূর্বতন সরকারের আমলে গড়ে ওঠা কংক্রিটের জঙ্গল ভেঙে মহাশ্মশানের গা ছমছমে পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হবে। যাতে শ্মশানের গরিমা ও আধ্যাত্মিকতা ফিরে আসে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, হেরিটেজ সংক্রান্ত যে কোনো প্রস্তাব রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর হয়ে হেরিটেজ কমিশনের মাধ্যমে ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণে(এএসআই) যায়, যা পরবর্তীতে ইউনেস্কোর বিবেচনায় পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে তারাপীঠের উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন সেবাইত ও স্থানীয় বাসিন্দারা।