সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘা এরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। সেইসঙ্গে দীঘায় মাছেরও বড় ব্যবসা রয়েছে। দু’টি ক্ষেত্রের সার্বিক উন্নয়নে নতুন সরকারের কাছে দরবার করবে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘা এরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। সেইসঙ্গে দীঘায় মাছেরও বড় ব্যবসা রয়েছে। দু’টি ক্ষেত্রের সার্বিক উন্নয়নে নতুন সরকারের কাছে দরবার করবে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, এমনিতেই দীঘায় অনেক ট্রেন চলাচল করে। হাজার হাজার পর্যটক রোজ ট্রেনে চেপে দীঘায় আসেন। পর্যটকদের সুবিধার জন্য ওড়িশার জলেশ্বর থেকে দীঘা এবং এগরা পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ জরুরি। বিগত সরকারের আমলে দীঘার সৌন্দর্যায়ন ও নিরাপত্তার উন্নয়নে নানা কাজ হয়েছে। তবে রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা সেই তিমিরেই থেকে গিয়েছে। এই ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত করতে হবে। বিশেষত বিভিন্ন লিংক রোড সংস্কার করা দরকার।
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, দীঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরি হয়েছে। দীঘা এখন আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র। আমাদের প্রধান দাবি, দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন। কারণ দীঘায় লক্ষ লক্ষ পর্যটক বেড়াতে আসেন। কিন্তু কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাঁথি মহকুমা হাসপাতাল সহ দূরবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে দেওয়া হয়। তাই হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, সার্বিক পরিকাঠামোর উন্নতি দরকার। সেটা হলে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে দীঘার গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে। আগামী দিনে আমরা একগুচ্ছ দাবি নিয়ে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দরবার করব। আশা করছি, নতুন সরকার এদিকে বিশেষ নজর দেবে।
দীঘা মোহনায় রাজ্যের সবচেয়ে বড় মাছের নিলামকেন্দ্র রয়েছে। এখানে মাছের কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয়। উৎপাদিত মাছ বিদেশে রপ্তানি হয়। কয়েকবছর আগে মোহনায় আধুনিক সুবিধাযুক্ত নিলামকেন্দ্রের পরিকাঠামো তৈরি শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজ ধীরগতিতে চলছে। দীঘা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, আমরা নিলামকেন্দ্রের কাজ অবিলম্বে শেষ করা সহ নানা দাবি নিয়ে সরকারের দ্বারস্থ হব। আগে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতে উন্নয়নের অনেক কাজ হত না। এখন রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার হয়েছে। তাই মৎস্যক্ষেত্র সহ প্রতিটি সেক্টরে কাজে গতি আসবে বলেই আমাদের ধারণা।
তিনি জানান, বিভিন্ন মৎস্যবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়ন, ট্রলার-লঞ্চের জ্বালানি ডিজেলের ভর্তুকি দেওয়া, সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা, তাঁদের বিমা সহ নানা ক্ষেত্রে নতুন সরকার নজর দেবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, জগন্নাথ মন্দির ও কিছু পার্ক তৈরি ছাড়া দীঘায় সেভাবে উন্নয়ন হয়নি। বাকি যে সমস্ত কাজ রয়েছে, সেগুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেব। দীঘা সহ অন্য মৎস্যক্ষেত্রের পরিকাঠামো উন্নয়নেও নজর থাকবে।