Bartaman Logo
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপে জন্মস্থান ও নিদয়া ঘাটের মধ্যে লঞ্চ পরিষেবা চালুর দাবি

দু’পাড়ের জেটি কয়েকবছর আগেই তৈরি হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু এখনো লঞ্চ পরিষেবা চালু না হওয়ায় সেই জেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না

নবদ্বীপে জন্মস্থান ও নিদয়া ঘাটের মধ্যে লঞ্চ পরিষেবা চালুর দাবি
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: দু’পাড়ের জেটি কয়েকবছর আগেই তৈরি হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু এখনো লঞ্চ পরিষেবা চালু না হওয়ায় সেই জেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে নবদ্বীপের জন্মস্থান ও নিদয়া ঘাটের মধ্যে ভাগীরথী পারাপারে নৌকাই ভরসা। দু’পারের গ্রামবাসী ও স্কুলপড়ুয়াদের রোজই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের মাচা দিয়ে নৌকায় উঠে নদী পারাপার করতে হচ্ছে। ঝড়বৃষ্টির সময় বাঁশের মাচা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সেজন্য তাড়াতাড়ি নিদয়া ও জন্মস্থান ঘাটের মধ্যে লঞ্চ পরিষেবা চালুর দাবি উঠেছে।

Advertisement

নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, দু’পাড়ের জেটির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। লঞ্চ পরিষেবা যাতে তাড়াতাড়ি চালু করা যায়, সেজন্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব।
মায়াপুর-বামুনপুর-২ পঞ্চায়েতের নিদয়া, নিরঞ্জননগর, শঙ্করপুর, গঞ্জডাঙা, শ্রীনাথপুর, ভারুইডাঙা সহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা এই দুই ফেরিঘাট হয়ে যাতায়াত করেন। প্রতিদিন এই ফেরিঘাট দিয়ে প্রায় দেড়হাজার মানুষ ভাগীরথী পার হয়ে নবদ্বীপে আসেন। আবার, বহু তীর্থযাত্রী নবদ্বীপের বিভিন্ন মঠ-মন্দির দর্শন করে নদী পেরিয়ে মায়াপুরে যান। দু’টি ফেরিঘাটের মধ্যে  ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ৩০মিনিট অন্তর নৌকা চলাচল করে। তবে নিদয়া থেকে জন্মস্থান ঘাটের দূরত্ব অনেকটাই।
বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য তথা মায়াপুর-বামনপুকুর-২ পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ার বাসিন্দা ভানু ঘোষ বলেন, এখনও লঞ্চ পরিষেবা চালু হয়নি। আমরা বিষয়টি বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামীকে জানিয়েছি। তিনি তাড়াতাড়ি সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
জন্মস্থান ঘাট এলাকার বৃদ্ধ বিফল ঘোষ বলেন, নতুন সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, তাড়াতাড়ি এই জেটি চালু করা হোক। এখানে লঞ্চ পরিষেবা চালু হলে শহরে যানজট কমবে। এলাকার অর্থনীতিরও বিকাশ হবে।
প্রাচীন মায়াপুর বাজারের প্রবীণ বাসিন্দা বিষ্টুপদ গোস্বামী ও চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, দিনের পর দিন জেটি পড়ে পড়ে নষ্ট হতে বসেছে। আমরা চাই, অবিলম্বে দুই পাড়ের মধ্যে লঞ্চ পরিষেবা চালু হোক।
টোটো চালক কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, যেভাবে বাঁশের মাচা দিয়ে বিপজ্জনকভাবে যাত্রীরা নৌকায় উঠছেন, তাতে ভয়ই লাগছে। প্রবীণ ব্যবসায়ী প্রাণগোপাল দেবনাথ বলেন, এই ফেরিঘাটে লঞ্চ পরিষেবা চালু হবে বলেই ধারদেনা করে এই দোকানটা নিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকবছর হয়ে গেলেও সেই পরিষেবা চালু হয়নি। ফলে কোনো খদ্দের নেই, দোকানে বিক্রিবাটা হয় না। এখানে প্রায় ১৩টি দোকান আছে। আমার মতো অনেকেই ধারদেনা করে এখানে দোকান নিয়েছিলেন। সবাই সমস্যায় পড়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ