


সংবাদদাতা, কাটোয়া: আধুনিকতার ছোঁয়ায় পাটের তৈরি হ্যান্ডমেড জুয়েলারি মনকাড়ছে মহিলাদের। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মহিলাদের কাছে এখন বড় পছন্দের অক্সিডাইস থেকে হ্যান্ডমেড জুয়েলারি। কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের বড়কুলগাছি গ্রামের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে তৈরি হ্যান্ডমেড জুয়েলারি উৎসবের মরশুমে পাড়ি দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। লখনউ, মুম্বই, রাজস্থান, কেরল, দিল্লির মতো রাজ্যগুলিতে অগ্রদ্বীপের হ্যান্ডমেড জুয়েলারি জনপ্রিয় হচ্ছে। মহিলারা সংসারের কাজ সামলে নিজেদের সৃজনশীলতাকে ফুটিয়ে তুলছেন গয়নার মাধ্যমে।
এই গয়না কম দাম ও ইউনিক ডিজাইনের কারণে বাজার দখল করে নিচ্ছে। অনেকেই ঘরে বসে নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে এগুলি তৈরি করে আয় করছেন। কিছু ফ্যাশন ডিজাইনারদের উদ্যোগে, ভারতে ২০২৫ সালের ব্রাইডাল জুয়েলারির ট্রেন্ডে এই হ্যান্ডমেড গয়নাও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। পাটের দড়ির মধ্যে নানা কারুকার্য করে তারমধ্যে পুঁথি, নানা কাগজের মডেল রঙবেরঙের সূতো দিয়ে সেলাই করে গয়না তৈরি হচ্ছে। মহিলারাও শাড়ির সঙ্গে সাজুয্য রেখে হ্যান্ডমেড জুয়েলারির দিকে ঝুঁকছেন। গ্রামীণ মহিলাদের পাটের গয়নার সৌজন্যে কর্মসংস্থান যেমন হচ্ছে, তেমনি পাটেরও চাহিদা বাড়ছে।
প্রতি বছরেই ফ্যাশনের ট্রেন্ড বদলায়। গত কয়েকটি বছর ধরে গয়নার ট্রেন্ডে ছোঁয়া লাগছে পরিবেশ-বান্ধবতার।
ফলে পাট, সুতো, কড়ি, গামছা, কাপড়ের পাড়, মাটির উপরেই তৈরি হচ্ছে গয়না। সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে থিম। দুর্গাপুজোর সাবেক দুর্গামূর্তি, ত্রিশূল, গণেশ, সরস্বতী, লক্ষ্মী তো আছেই। সাহিত্য-সিনেমাও অনুপ্রাণিত করছে গয়নাকে। ফলে হারের চওড়া লকেটে কোথাও ‘পথের পাঁচালী’ তো কোথাও কল্লোলিনী তিলোত্তমার ছবি জায়গা পাচ্ছে।
অগ্রদ্বীপের বাসিন্দা নির্মল মাঝি বলেন, এই কাজ করে আমাদের পরিবারের হাল ফিরছে। অগ্রদ্বীপের বড় কুলগাছির বাসিন্দা বৈশাখি মাঝি, টুকি মাঝি, শান্তনা মাঝি বলেন, আমাদের স্বামীরা কেউ মাঠে কাজ করেন, আবার কেউ ইটভাটায় কাজ করেন। আমরা এসব গয়না তৈরির কাজ শিখেছি। এখন মাসে পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। সংসারটা তো চলে যাচ্ছে। উন্নতি মাঝি, সন্তোষী মাঝি বলেন, আগে আমাদের সংসার চলত শুধু একজনের আয়ের উপরে। এখন আমরা স্বনির্ভর হয়েছি। সংসারে বাড়তি পয়সার জোগানটা আমরা দিতে পারছি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চলে যাচ্ছে। কাগজ কেটে তার উপর নানা কাপড় জড়িয়ে মডেল তৈরি করি। সেগুলি লকেট হিসেবে ব্যবহার করি। আবার তামার তার দিয়েও নানা ডিজাইনের লকেট তৈরি করি। -নিজস্ব চিত্র