


সংবাদদাতা, কাটোয়া: অগ্রদ্বীপের কাঠপুতুলের তৈরি নানা ফার্নিচার রাজ্যজুড়ে দেদার বিকোচ্ছে। পুরনো দিনের নানা কাঠের সূক্ষ্ম কারুকার্যে ভরা সিন্দুক থেকে সোফা, বসার চেয়ার সবেতেই সুনিপুণ শিল্পকলার ছোঁয়া নজর কেড়েছে। আর সেই ফার্নিচারের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। কাটোয়া-২ বিডিও আসিফ আনসারি বলেন, অগ্রদ্বীপের শিল্পীরা কাঠের খুব সুন্দর ফার্নিচার তৈরি করছেন। সেগুলি অনলাইন বা অফলাইনে ভালোই বিক্রি হচ্ছে। বিশ্ববাংলার স্টলেও বিক্রি হচ্ছে। কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ, পূর্বস্থলী-২ ব্লকের নতুনগ্রামের শিল্পীরা কাঠের পুতুলের পেঁচা সহ নানা ধরনের কাঠের শিল্পকলা তৈরি করেন। অগ্রদ্বীপের কাঠের পুতুল পাড়ি দিয়েছে বিদেশের মাটিতেও। শিল্পীদের তৈরি কাঠের রাশিয়ান ডল স্পেনের মিউজিয়ামে স্থান পেয়েছে। শুধু তাই নয়, আফ্রিকান ডলের আদলেই কাঠের দুর্গাপ্রতিমা স্থান পেয়েছে রাজ্যের বিশ্ববাংলার বিপণন কেন্দ্রগুলিতেও। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পাল্লা দিতে গেলে এই শিল্পের গুণগত মানও ভালো হওয়া দরকার। তারজন্য শিল্পীদের কাঠের সূক্ষ্ম কারুকার্যে মান বাড়াতে হবে। এছাড়া কাঠের উপর পালিশের কাজেরও মান বাড়াতে হবে।
অগ্রদ্বীপের শিল্পীরা কাঠের নানা সূক্ষ্ম কারুকার্যতে ভরা ফার্নিচার তৈরি করছেন। ড্রেসিং টেবিল, সোফা, ডাইনিং টেবিল, বসার চেয়ারের সেট, পুরনো আমলের সিন্দুক তৈরি করছেন। প্রতিটি ফার্নিচারেই কাঠপুতুলের ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য কাঠপুতুল ব্যবহার করা হচ্ছে। পূর্বস্থলীর নতুনগ্রাম ও অগ্রদ্বীপের কাঠপুতুল একটা ঐতিহ্য। এখানকার শিল্পীরা আজীবন কাঠপুতুল তৈরি করেই বিখ্যাত হয়েছেন। তাই ফার্নিচারেও কাঠপুতুল দিয়েই তৈরি করা হচ্ছে। কলকাতার হাওড়ার সালকিয়ায় এক ব্যক্তি বরাত দিয়ে ওই কাঠপুতুলের ফার্নিচার নিয়ে গিয়েছেন। ফার্নিচারের দামও ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বরাতও আসছে অনেক। শিল্পীদের দুর্দশা কাটছে ধীরে ধীরে।
শিল্পী অক্ষয় ভাস্কর বলেন, কলকাতা ইকোপার্কে হস্তশিল্প মেলায় আমি ফার্নিচার নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে দেখে অনেকেই এখন বরাত দিচ্ছেন। ফার্নিচারে আমাদের ঐতিহ্য কাঠপুতুলের ছোঁয়া তো থাকবেই। অনেকে বলছেন, কাঠের কাজ করা যে ধরনের ফার্নিচার তৈরি হচ্ছে তা অভাবনীয় কারুকার্য থাকছে। এর আগে এখানকার শিল্পীদের থেকেই বরাত দিয়ে তৈরি করিয়ে গুজরাতে বেশ কয়েকটি সিনেমায় বিভিন্ন কাঠের মুখোশ ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া সিনেমার সেট সাজাতেও এসব মুখোশ ব্যবহার করা হচ্ছে।