নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অন্যতম শহর শ্যামনগরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ২৩ নম্বর রেলগেটে একটি উড়ালপুল। ঘোষপাড়া রোডের যানজট থেকে মুক্তি দিতে পারে এই উড়ালপুল। পূর্তদপ্তর এর আগে সমীক্ষা করলেও কাজ এগয়নি। ব্যস্ততম ঘোষপাড়া রোডের সঙ্গে ২৩ নম্বর রেলগেট টপকে ফিডার রোড সংযুক্ত হয়নি। ওই রেলগেট পেরতে ঘণ্টাখানেক সময় লেগে যায়। শ্যামনগরের মানুষের উড়ালপুলের দাবি দীর্ঘদিনের। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হতে চলেছে।
ভোটে জেতার পর অর্জুন সিং গত শনিবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে এই উড়ালপুল তৈরির দাবি জানান। সেই দাবি মেনে, রেলের পক্ষ থেকে ২৩ নম্বর রেলগেটে সমীক্ষার কাজ শুরু হল। সঙ্গে ছিলেন গাড়ুলিয়া পুরসভা, পরিবহণ দপ্তর এবং রাজ্য সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা। সরেজমিনে দেখা হয়, উড়ালপুলটি কোথা থেকে উঠে কোথায় গিয়ে নামবে। সে সময় ছিলেন গাড়ুলিয়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুনীল সিং, প্রাক্তন চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্য গৌতম বসু। তিনি বলেন, রেল ২৩ নম্বর গেটের উড়ালপুল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ছ’মাসের মধ্যে কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে আশা করছি। শ্যামনগরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এই উড়ালপুল। তা পূরণ হতে যাচ্ছে। নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, শ্যামনগরের বহু মানুষ এই উড়ালপুল তৈরির দাবি জানিয়েছিলেন। যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রেলমন্ত্রীকে সেটা বলেছিলাম। সদর্থক ভূমিকা নিয়ে রেল এগিয়ে এসেছে।
এছাড়া, বারাকপুর স্টেশনের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য রেলের অফিসার ইঞ্জিনিয়াররা শুক্রবার স্থানীয় বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন করলেন। প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম, ১৪ নম্বর রেলগেট এবং তার সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন তাঁরা। পরে বিধায়ক বলেন, আমরা রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ডানলপ থেকে মেট্রো রেল সম্প্রসারণ দাবি জানিয়েছি। রেল এ ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
রেলের অফিসার ইঞ্জিনিয়াররা গোটা বারাকপুর স্টেশন চত্বর ঘুরে দেখেন। ১৪ নম্বর রেলগেটে একটি উড়ালপুল হবে। সংলগ্ন বারাকপুর গার্লস স্কুল পর্যন্ত একটি রাস্তা তৈরি হবে। বারাকপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে চার নম্বর থেকে এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম যাওয়ার ছয় মিটার চওড়া ফুট ওভারব্রিজ হবে। যেখানে বয়স্ক মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য লিফট থাকবে।