


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী সি আর পাতিল নিজেই বলছেন, ‘দেশের মধ্যে যদি সবচেয়ে দূষিত কোনও নদী থাকে, তা হল যমুনা। দিল্লির অংশে। জল তো নয়, নর্দমা।’ আবার সেই মন্ত্রীই মোদি সরকারের ১১ বছর পূর্তির প্রচারে জানাচ্ছেন, ‘আগামী তিন বছরের মধ্যে দিল্লির যমুনার জল পানীয়র উপযোগী করাই আমাদের টার্গেট। প্রথম দেড় বছরে স্নানের উপযোগী করে তোলা হবে। পরের দেড় বছরে পানীয়র।’ কিন্তু মন্ত্রী যতই বলুন না কেন, প্রকল্প পূরণের লক্ষ্যমাত্রা যা নেওয়া হয়েছিল, তা ফেল। ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪ সালেই মোদি সরকার বলেছিল ২০২১ সালের মধ্যে শেষ হবে ‘নমামি গঙ্গে প্রকল্পে’ যমুনা নদীর সংস্কারের কাজ। হয়নি। এখনও রাজধানী দিল্লিতে দেখা যায় যমুনায় পলির পাহাড়। অথচ স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার খরচ করছে ৫ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। কিন্তু কাজ এগচ্ছে না। তাই এখন সংস্কার সম্পূর্ণ করার নতুন টার্গেট ২০২৬ সাল।
এতদিন দিল্লিতে আম আদমি পার্টির সরকার ছিল বলে যমুনা সংস্কারের কাজে কেন্দ্রকে সহায়তা করছিল না বলে উঠত অভিযোগ। দিল্লিতে এখন বিজেপি সরকার। ডাবল ইঞ্জিন। ফলে এখন কাজ দ্রুত গতিতে এগবে বলেই বিজেপির মত। কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করেছেন যমুনা সংস্কারে দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে। কাজও শুরু হয়েছে। তবে ডাবল ইঞ্জিনেও ধাক্কা!
পরিকল্পনা হয়েছে, দিল্লিতে যমুনার জলের স্রোত বাড়াতে উত্তরপ্রদেশে গঙ্গা থেকে জল এনে মেশানো হবে। আর সেখানেই খেতে হচ্ছে ধাক্কা। উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়ে দিয়েছে জল দেব না। যোগী আদিত্যনাথ বেঁকে বসেছেন। তাঁর রাজ্যে গঙ্গার জলের প্রবাহ কমে যেতে পারে, এই আশঙ্কাতেই বিজেপি শাসিত রাজ্য হলেও দিল্লিকে তারা জল দেবে না বলেই অবস্থান নিয়েছে। সংবিধান মোতাবেক জল রাজ্যের বিষয়। তাই উত্তরপ্রদেশের এই অবস্থানে ফাঁপড়ে পড়েছে দিল্লি। এদিকে মোদি সরকারের টার্গেট নদী সংযুক্তিকরণ। কিন্তু যোগীর অবস্থানে দিশাহীন অবস্থা দিল্লির। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সি আর পাতিলের আশা, সমস্যা মিটে যাবে। তিনি বলেন, আগে তো যমুনা সংস্কার হয়ে যাক। তারপর উত্তরপ্রদেশ থেকে গঙ্গার জল এনে মেশানোর বিষয়টি হবে। উত্তরপ্রদেশ যে জল না দেওয়ার কথা বলছে, সে সমস্যাও আশাকরি মিটে যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ ব্যাপারে দুই মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে মধ্যস্থতা করছেন।’