Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১৪০০ কিমি উজিয়ে খুন দিল্লির অধ্যাপিকা! বর্ধমানে ধৃত দম্পতি

দিল্লির অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে খুনের ঘটনায় বর্ধমানে দম্পতি গ্রেপ্তার। সম্পত্তির জন্য ১৪০০ কিমি উজিয়ে গিয়ে হত্যাকাণ্ড। বিস্তারিত পড়ুন।

১৪০০ কিমি উজিয়ে খুন দিল্লির অধ্যাপিকা! বর্ধমানে ধৃত দম্পতি
  • ৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে খুনের ঘটনায় বর্ধমান শহরের বাদামতলা থেকে এক দম্পতি ও তাদের নাবালক ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস। পুলিশ সূত্রে জানিয়েছে, ওই অধ্যাপিকার নামে তাঁর দাদু একটি বাড়ি লিখে দিয়েছিলেন। বর্তমানে সেটির বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। সেই বাড়িতেই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন ওই দম্পতি। তাঁদের ষড়যন্ত্র ছিল, অধ্যাপিকাকে সরিয়ে দিতে পারলে ওই বাড়ি দাবিদারহীন হয়ে পড়বে। আর সহজেই তা কব্জা করে নেওয়া যাবে। সেইমতো ছক কষা হয় খুনের। পুলিশি জেরায় ধৃত দম্পতি স্বীকার করেছেন, ওই বাড়িটি হাতানোর জন্যই তাঁরা ১৪০০কিলোমিটার উজিয়ে গিয়ে অধ্যাপিকাকে খুন করে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির ভাড়া দেওয়ার অছিলায় দিল্লিতে অধ্যাপিকার ফ্ল্যাটে যান দম্পতি। সঙ্গে ছিল সন্তানও। যাওয়ার আগে বনশ্রী অধ্যাপিকাকে ফোন করে জানান, বাড়ির ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি দিল্লি ঘোরার ইচ্ছেও রয়েছে। দেবস্মিতা দেবী তাঁদের আমন্ত্রণ জানান। সেইমতো গত বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে পৌঁছান দম্পতি। খাওয়া-দাওয়ার পর কিছুক্ষণ তাঁরা বিশ্রাম নেন। তারপরই শুরু হয় ‘আসল কাজ’। অধ্যাপিকার উপর অতর্কিতে হামলা চালান। প্রথমে মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করেন রামপ্রসাদ। মারধর করেন বনশ্রীও। মৃত্যু নিশ্চিত করতে অধ্যাপিকার হাতের শিরা কেটে দেওয়া হয়। এরপর রক্তমাখা পোশাক বদলে তাঁরা বেরিয়ে আসেন। ফেরেন বর্ধমানে। 
নৃশংস খুনের ঘটনা সামনে আসার পরই শোরগোল পড়ে যায়। পুলিশ কোমর বেঁধে ময়দানে নামে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানা যায়, তিনজন আবাসনে ঢুকেছিল। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ একজন মহিলা এবং এক নাবালক। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিবাজি কলেজের ওই অধ্যাপিকা ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। স্বামী থাকেন বেঙ্গালুরুতে। তাই ফ্ল্যাটে আসা ওই তিনজনের পরিচয় জানতে তদন্তকারীদের কালঘাম ছুটে যায়। সবার মুখে মাস্ক থাকায় ছবি দেখে চেনার উপায়ও ছিল না। একাধিক টিম গড়ে শুরু হয় তদন্ত। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বর্ধমানের ভাড়াটিয়াদের ব্যাপারে ‘ইনপুট’ পায় পুলিশ। তাঁদের দিল্লি আসার কথা ছিল বলেও তদন্তকারীদের কাছে তথ্য পৌঁছায়। এরপর দিল্লি পুলিশ যোগাযোগ করে বর্ধমান থানার সঙ্গে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে পাওয়া ছবির বিবরণ মিলতেই  ‘খুনি’দের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে যায় পুলিশ। 
শনিবার রাতে দিল্লি পুলিশের একটি টিম বর্ধমানে এসে পৌঁছায়। তারা বাদামতলার ওই বাড়িতে ঢোকার জন্য দরজায় কড়া নাড়ে। সাড়া না পেয়ে পুলিশ প্রাচীর টপকে বাড়িতে ঢোকে। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ছুরি জাতীয় ধারালো অস্ত্র তারা সঙ্গে করেই নিয়ে গিয়েছিল। সম্পত্তি হাতানোর উদ্দেশ্যেই দিল্লির বাসিন্দা বাঙালি অধ্যাপিকাকে খুন করা হয়েছে। তারা জেরায় সে কথা স্বীকারও করেছে। তারপরই তাদের গ্রেপ্তার করে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ