Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬

ক্ষুব্ধ দিল্লি, ‘সামাল’ দিতে রাজ্যে নীতিন, বিজেপির সর্বস্তরে তোলাবাজি!

আম জনতার ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে দলের নীচুতলার উপর। অভিযোগ একটাই—রাজ্যে ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যে তোলাবাজি সংস্কৃতি গ্রাস করেছে বঙ্গ বিজেপিকে।

ক্ষুব্ধ দিল্লি, ‘সামাল’ দিতে রাজ্যে নীতিন, বিজেপির সর্বস্তরে তোলাবাজি!
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: আম জনতার ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে দলের নীচুতলার উপর। অভিযোগ একটাই—রাজ্যে ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যে তোলাবাজি সংস্কৃতি গ্রাস করেছে বঙ্গ বিজেপিকে। আর তা নিয়ে স্থানীয় স্তরে অসন্তোষের মাত্রা এতই বাড়ছে যে, দিল্লি পর্যন্ত নড়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো উঠেপড়ে লাগতে হয়েছে বিজেপির শীর্ষস্তরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। বিজেপির সর্বস্তরে যেভাবে একের পর এক তোলাবাজি, দুর্নীতি কিংবা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত অভিযোগ উঠে আসছে, তাতে বেজায় ক্ষুব্ধ দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এরইসঙ্গে প্রকাশ্যে আসছে এনসিপিআইয়ের নামধারী বিদ্রোহী তৃণমূল এমপিদের নিয়ে বিজেপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম কোন্দলের ছবি। প্রধানত এই সাঁড়াশি চাপে নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। পরিস্থিতি এতই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে, ‘সামাল’ দিতে রাজ্যে যেতে হচ্ছে স্বয়ং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনকে। আগামী মাসের একেবারে গোড়াতেই বাংলায় যাচ্ছেন নবীন। প্রধানত তাঁর তিনদিনের বঙ্গ সফরের কর্মসূচি নির্ধারিত হতে চলেছে। 

Advertisement

এই আবহেই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের উদ্দেশে ফের কড়া বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় বিজেপি সূত্রে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভার আসন্ন নির্বাচনে যদি ওইসব এমপি তাঁর ঘনিষ্ঠদের টিকিটের ব্যাপারে লবিবাজি করেন, তাহলে তা পত্রপাঠ খারিজ করে দেওয়া হবে। বিদ্রোহী তৃণমূলের সুপারিশে কেউ প্রার্থী হবেন না। এমন জটিল পরিস্থিতিতেই আসছেন নবীন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল যে, এবার শুধুমাত্র কলকাতা-কেন্দ্রিক সফর করবেন না বিজেপি সভাপতি। তিনি চষে বেড়াবেন গোটা বাংলাই। পাহাড়/তরাই-ডুয়ার্স, উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গজুড়েই থাকবে তাঁর সফর। জোনভিত্তিক সাংগঠনিক বৈঠক করবেন। প্রায় প্রত্যেক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলবেন। রিপোর্ট নেবেন। জেলায় জেলায় দেবেন বার্তাও। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নীতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। এদিন বিকালেই তিনি দেখা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা, দলের অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলের সঙ্গেও। বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে শমীকবাবু শুধু বলেছেন, ‘নবীনজি সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিনদিনের জন্য রাজ্যে যাবেন। সাংগঠনিক বৈঠক করবেন।’ সাংগঠনিক দিশা পেতে রাজ্য বিজেপির নেতারা যেভাবে দফায় দফায় দিল্লিতে দলের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করছেন, তা যথেষ্টই ইঙ্গিতবাহী। 
সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীনই একাধিকবার সুনীল বনসলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন শমীকবাবু। এরই পাশাপাশি বুধবার বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সুকান্তবাবু যদিও একে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলছেন। আদি কর্মীদের নজর কিন্তু ‘শৃঙ্খলা’য়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ