কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রুখে রেকর্ড বিক্রি, যাদবপুরে সিপিএমের বুকস্টলে বিক্রি ছাড়াল ১৬ লক্ষ, সন্তুষ্ট আলিমুদ্দিন
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবছর পুজোয় রাজ্যজুড়ে বামপন্থী দলগুলির অস্থায়ী দোকানে বইয়ে লাথি মারার মতো নজিরবিহীন দৃশ্য দেখেছেন রাজ্যবাসী। কোথাও অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, কোথাও আবার পুলিশের বিরুদ্ধে সরব বামেরা। আক্রমণের পর বিভিন্ন এলাকায় বামেরা নানা পন্থা অবলম্বন করে বই বিক্রি করেছেন। ভ্যানে বই নিয়ে বিক্রি হয়েছে, কোথাও ভাঙা স্টলে বই নিয়ে বসা হয়েছে, কোথাও রাস্তাতেই টেবিল পেতে বই বিক্রি হয়েছে। এসবের মধ্যে বই বিক্রিও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। অন্যান্য বছর যা বিক্রি হয়, তার চেয়ে কোথাও দ্বিগুণ বা তারও বেশি বই বিক্রি হয়েছে। বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য, স্বপন দাশগুপ্তরা বই বিপণিতে আক্রমণের নিন্দা করেছেন। আবার বামপন্থীদের কিছু স্টলে বিজেপি বিধায়কদেরও বই কিনতে দেখা গিয়েছে। বই বিক্রি করতে গিয়ে আদালতেও পৌঁছাতে হয়েছে বামেদের। বইয়ের উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে সংহতি জানাতে সাধারণ মানুষ, যাঁরা কখনো এই বই স্টলে যাননি, তাঁরাও বই কিনেছেন। যাদবপুরে বামেদের স্টলে মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকাররাও এসেছিলেন। অভাবনীয় বাম ঐক্য দেখা গিয়েছে। এসইউসি কিংবা সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের স্টলে সিপিএম কর্মী-সমর্থকরা গিয়েছেন। আবার অন্যান্য বামদলের নেতৃত্বকে সিপিএমের স্টলে দেখা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই সিপিএমের বুক স্টলে বই বিক্রির হিসাব সামনে আসা শুরু হয়েছে। নেতৃত্বের বক্তব্য, বিভিন্ন জেলায় গতবছরের তুলনায় বই বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত জানান, সিপিএমের যাদবপুরের স্টলে গত কয়েকবছরের মধ্যে, ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি ৬ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়। এবছর সেই অঙ্ক পৌঁছেছে ১৬ লক্ষ ২ হাজার ৪৯৮ টাকায়। প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ এসেছিল স্টল তুলতে। দেখা গিয়েছিল বুলডোজার পর্যন্ত! ভোর ৫টা পর্যন্ত কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় থেকে স্টল রক্ষা করেন। এপিডিআর ও এসইউসির স্টলটিই ভাঙা গিয়েছিল। সেই স্টল আবার পরে খোলা হয়েছিল। সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর তরফে এনবিএ-র দায়িত্বপ্রাপ্ত সুজন চক্রবর্তী বলছিলেন, সাধারণ মানুষকে কুরনিস। যত আক্রমণ হয়েছে মানুষ বুঝেছে রক্ষা করতে হবে। প্রাথমিক রিপোর্ট রাজ্যজুড়ে ২২৭টি স্টলে হামলা হয়েছে। তার মধ্যে ১৩-১৪টি স্টল খোলা যায়নি। এখনো পর্যন্ত ১২টি জেলার হিসাব মিলিয়ে দেখছি, গতবছর সেখানে ৪৮ লক্ষ বই বিক্রি হয়েছিল। এবার তা ৯৮ লক্ষ টাকা ছাড়িয়েছে। আক্রমণকারীদের যিনি উসকেছেন, তিনি আয়নার সামনে দাঁড়ান। ‘বাম বধ’ করতে এসে যাঁরা ‘বই বধ’ করার চেষ্টা করেছেন, তাঁরা আসলে ‘মানুষ বধ’ করেছেন!  আক্রমণের মুখে পড়েছে এসইউসির স্টলগুলিও। এসইউসি রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য বলেন, এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে যা খবর, অন্যান্য বছরের তুলনায় ৪০-৫০ শতাংশ বেশি বই বিক্রি হয়েছে।

Advertisement