নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটিতে গড়ে উঠতে চলেছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা। রাজ্য বাজেটে এ ব্যাপারে ঘোষণা করা হয়েছে। গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের দেউল মৌজায় অবস্থিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ওই কারখানা গড়ে উঠবে। ঝাঁ চকচকে গেট, সীমানা প্রাচীর থাকলেও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কটি এতদিন খাঁ খাঁ করছিল। বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও কেউ সেখানে শিল্প গড়তে রাজি হয়নি।
বড়জোড়ার বিজেপি বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিনহা বলেন, দেউল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা হবে। তাতে অনেকের কর্মসংস্থান হবে। বাজেটে বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। ওই কারখানার হাত ধরে আগামী দিনে বড়জোড়া-মেজিয়া-গঙ্গাজলঘাটি এলাকায় শিল্পের জোয়ার আসবে।
পশ্চিমাঞ্চল চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরকার বলেন, ভারী শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক সহযোগিতা তথা আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকা প্রয়োজন। বাঁকুড়ার জন্য পরিকাঠামো নির্মাণে তেমন গুরুত্ব এবারের বাজেটে দেওয়া হয়নি। দুর্গাপুর ব্যারেজের বিকল্প সেতুর দাবি আমরা রাজ্যের কাছে সম্প্রতি জানিয়েছিলাম। বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলকে চাঙ্গা করতে তা জরুরি। বাজেটে সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। তবে সামগ্রিকভাবে রাজ্যে শিল্পের পরিকাঠামো গড়ার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্পবান্ধব একাধিক কর্মসূচি নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে যার সুফল পাওয়া যাবে।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পর জেলায় সেভাবে বড় কোনো শিল্প গড়ে ওঠেনি। বাঁকুড়ায় জমির অভাব হবে না। বহু জমিতে সেচের অভাবে চাষাবাদ হয় না। বাসিন্দাদের কাজের খোঁজে ভিন জেলায় বা অন্য রাজ্যে যেতে হয়। এখানে শিল্প গড়ে উঠলে ভালো হয়। এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জেলার অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়াবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন নিগমের দেউল এলাকায় প্রায় ৩০ একর জায়গার উপর ওই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক রয়েছে। বেশ কয়েকমাস আগে এলাকা ঘেরা হলেও সেখানে কোনো শিল্প গড়ে ওঠেনি। পার্কের পাশে পিচের রাস্তাও রয়েছে। ফলে সেখানে কারখানা নির্মাণ হলে যোগাযোগের সমস্যা হবে না। সহজেই বাঁকুড়া-রানিগঞ্জ জাতীয় সড়ক হয়ে পণ্য পরিবহণ করা যাবে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি হওয়া মানে সরকার বা সরকারি আওতাধীন কোনো সংস্থাই কারখানা গড়বে বলে আধিকারিকরা মনে করছেন। সে ক্ষেত্রে অনুসারী শিল্পও গড়ে উঠবে। সেখানে আগামী দিনে অনেকের কর্মসংস্থান হবে। যদিও এ ব্যাপারে বিধায়ক বা আধিকারিকরা এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি। বাজেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরেই তা জানা যাবে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।