Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬

ওয়াংচুকের নাম না নিয়ে সমষ্টির জয়গান দিপকের, সদ্য অনশন ভাঙা সোনাম বললেন, ‘গণতন্ত্রের জয়’

অনশন ভেঙে গণতন্ত্রের জয় ঘোষণা করলেন ওয়াংচুক। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর দিপকের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বিস্তারিত পড়ুন।

ওয়াংচুকের নাম না নিয়ে সমষ্টির জয়গান দিপকের, সদ্য অনশন ভাঙা সোনাম বললেন, ‘গণতন্ত্রের জয়’
  • ২৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ব্যক্তি পুজো নয়, সমষ্টির জয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর যন্তরমন্তর থেকে এই বার্তাই দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। এমনকি তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ রইল না ২৬ দিন ধরে অনশন চালানো সোনাম ওয়াংচুকেরও। যন্তরমন্তরের মঞ্চ থেকে দিপকে বললেন, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বলতে চাই। বিশেষ কাউকে নায়ক বানানোর প্রবণতা প্রতিরোধ করা উচিত মানুষের। আজ ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন বলে আমাকে নায়ক বানানোরও দরকার নেই। সেই ভুল করবেন না।’ নাম না করে এল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ঠেসও। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা বললেন, ‘আমরা ক্রমাগত একজনকে নায়ক বানিয়ে চলেছি বলেই দেশটা ধ্বংস হতে বসেছে।’ আর প্রধানদের ইস্তফার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় সোনাম ওয়াংচুক এক্স হ্যান্ডলে লিখলেন, ‘এটা গণতন্ত্রের জয়।’ সিজেপি ও দেশের জেন জি-কে শুভেচ্ছা জানালেন তিনি। ভয় ঝেড়ে ফেলা দেশের প্রতিটি অংশ থেকে আওয়াজ তোলার জন্য ধন্যবাদ জানালেন নাগরিকদের।

Advertisement

২৬ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে অনশন ভঙ্গ করেছেন সোনাম ওয়াংচুক। সিজেপির শুরু করা আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি অনশন শুরু করার পর থেকেই যুব সমাজে উদ্দীপনা তুঙ্গে ওঠে। এদিন শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেওয়ার পর হাসপাতালের বেড থেকে ভিক্ট্রি সাইন সহ ছবি পোস্ট করলেন এই পরিবেশকর্মী। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র... সরাসরি রাজপথ থেকে। এটি শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের বিজয়।’ ওয়াংচুকের বার্তা, আলোচনা এবার ‘জবাবদিহি’ থেকে ‘সংস্কারে’র দিকে মোড় নেবে।
এর মধ্যেই দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভরতি থাকাকালীন পুলিশের সঙ্গে ওয়াংচুকের বচসায় জড়ানোর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। ৫৯ বছরের পরিবেশকর্মীর ইউটিউব অ্যাকাউন্টে শুক্রবার রাতে এই ভিডিয়ো শেয়ার করা হয়েছে। ওয়াংচুকের অভিযোগ, হাইকোর্ট তাঁকে গুরুগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়ার পরও ২১ জুলাই তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দফদরজং হাসপাতাল থেকে বেরতে দেওয়া হয়নি। ওই সরকারি হাসপাতাল ছাড়তে বাধা দেওয়া হয়। হাসপাতালের করিডর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দৃশ্যতই অসন্তুষ্ট ওয়াংচুক বলতে থাকেন, আমি একজন স্বাধীন নাগরিক। আমাকে গ্রেপ্তার করতে বলুন। আমার অনশন কর্মসূচির আজ ২৫তম দিন। আপনারা আমাকে তিন ঘণ্টা ধরে আটকে রেখেছেন। হেনস্তা করছেন। আমার মৃত্যু হলে তার দায় আপনাদের। এরপরই এক পুলিশকর্মীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, আমরা আপনাকে হেনস্তা করছি না। এরপরই ক্ষুব্ধ ওয়াংচুক হাসপাতালের একজনকে বলেন, আপনারা ডাক্তার না কসাই! সেই সময় হাসপাতাল করিডরের মেঝেতেই শুয়ে পড়েন ওয়াংচুক। হাসপাতালের এক কর্মী বলেন, আপনাকে স্থানান্তরের বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশের কপি আমাদের হাতে এখনও আসেনি। জবাবে অনশনরত পরিবেশকর্মী বলেন, নির্দেশের কপি ডিজিটালি সর্বত্র রয়েছে। একমাত্র আপনারা ছাড়া গোটা বিশ্ব তা জানে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ