


নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে অশান্তির মধ্যেই মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স (আইএসকেপি)। ইতিমধ্যেই বালুচিস্তানের পার্বত্য এলাকায় ক্যাম্প তৈরি করে জঙ্গি প্রশিক্ষণ শুরু করেছে বলে একটি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেছে আইএসকেপি। শুধু তাই নয়, বালোচ লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ) এবং বালোচ লিবারেশ আর্মির (বিএলএ) মতো বিদ্রোহী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণাও করেছে জঙ্গি সংগঠনটি। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে আফগান তালিবানকেও। গত রবিবার পস্তু ভাষার প্রকাশিত প্রায় ৩৬ মিনিটের ওই ভিডিওতে আইএসকেপি’র মিডিয়া শাখা আল আজিম ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, মাস দু’য়েক আগে মাস্তাং জেলায় আইএসকেপির ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে অন্তত ৩০ জঙ্গিকে হত্যা করেছে বালোচ বিদ্রোহীরা। তারই প্রতিশোধ নিতে এবার সরাসরি লড়াইয়ে নামতে চলেছে আইএসকেপি।
বর্তমানে বালোচ বিদ্রোহীদের লাগাতার হামলা পাক সেনার মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিদ্রোহীদের দমন করতে আইএসকেপি-কে হাতিয়ার করছে ইসলামাবাদ। আবার অন্য একটি অংশের মতে, এই কৌশল ঘুরিয়ে পাকিস্তানকেই বিপদে ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে তাঁরা সিরিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে জানিয়েছে, আইএসকেপির বাড়বাড়ন্ত সিরিয়ার মতো পরিস্থিতির দিকেই ঢেলে দেবে দেশটিকে।
বালুচিস্তানে আইএস জঙ্গি ক্যাম্প সক্রিয় থাকার দাবি আগেই করেছিল তালিবান। এবার আইএসকেপির বিবৃতি প্রকাশ্যে আসার পর সরাসরি পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় তুলেছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। পাক সেনা ও প্রশাসনের মদতেই ওই জঙ্গিরা আফগানিস্তানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলেই দাবি করেছেন আফগান তালিবানের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ। ২০২৪ সালের মে মাসে বামিয়ান এবং ওই বছরই সেপ্টেম্বরে কাবুলের জঙ্গি হামলার পিছনে এই মাস্তাং ক্যাম্পে প্রশিক্ষিত আইএস জঙ্গিরাই ছিল অভিযোগ করেছেন জবিউল্লা।
ভিডিওর একদম শেষদিকে জনগণকেও হুমকি দিয়েছে আইএসকেপি। বলা হয়েছে, কেউ যেন বালোচ বিদ্রোহীদের র্যালি বা জনসভায় অংশ না নেন। কারণ, প্রাথমিকভাবে ওই জমায়েতগুলিকেই নিশানা করা হবে।