নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেশনে যে চাল সরবরাহ করা হয়, তাতে ভাঙা চালের পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সদ্য এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। এতে রেশনের চালের মান উন্নত হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে আরও কয়েক মাস লাগবে। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ২০২৭-২৮ খরিফ মরশুমের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে এই ব্যবস্থা। নতুন খরিফ মরশুম নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয়। এখন সরকারের বা রাইস মিলের গুদামে যে চাল আছে, সেখান থেকেই আপাতত কয়েক মাস রেশনে সরবরাহ চলবে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়ে গেলে একদিকে যেমন রেশনের চালের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে, সেই সঙ্গে ইথানল উৎপাদনে ভাঙা চালের জোগান আরও বাড়বে। পেট্রলে ইথানল মেশানোর হার আরও বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্র এখন খুব সক্রিয়। নতুন ব্যবস্থায় সরকারের বছরে ২১৬১ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের রেশন গ্রাহকদের সেদ্ধ চালের মধ্যে ভাঙা চাল সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ও আতপ চালের ক্ষেত্রে ২৫ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর ভালো মানের চাল দেওয়ার যে ঘোষণা করেছিলেন, তা বাস্তবায়নে আরও সুবিধা হবে এর ফলে। রাজ্য প্রকল্পের আওতায় থাকা রেশন গ্রাহকদের চালের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। খুদ (ভাঙা চাল) মেশানো চাল দেওয়ার জন্য অনেক সময় সাধারণ মানুষ ডিলারদের দায়ী করে। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুযায়ীই যে ভাঙা চাল বা খুদ মেশানো চাল দেওয়া হয়, সেটাও এখন প্রকাশ্যে এসে গেল।
রাইস মিলে সরকারি উদ্যোগে কেনা ধান থেকে চাল উৎপাদনের সময় বেশ কিছু পরিমাণ ভাঙা চাল উৎপাদন হয়। বেঙ্গল রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ‘এতদিন সরকারি নিয়ম মেনেই ভাঙা চাল মেশানো হত। সরকারি নির্দেশ এলে নতুন ব্যবস্থায় উৎপাদন শুরু হবে রাইস মিলে।’