Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রবীণদের জন্য প্রকল্পের কথা প্রচারে এনে সাড়া ফেলেছেন দেবাংশু

নতুন প্রজন্মের সামাজিক ও কর্মজীবনের নানা বদলের জেরে প্রবীণ মানুষদের একাকী জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ভোট মরশুমে চুঁচুড়ার প্রবীণদের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা প্রচারে তুলে ধরছে তৃণমূল।

প্রবীণদের জন্য প্রকল্পের কথা প্রচারে এনে সাড়া  ফেলেছেন দেবাংশু
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নতুন প্রজন্মের সামাজিক ও কর্মজীবনের নানা বদলের জেরে প্রবীণ মানুষদের একাকী জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ভোট মরশুমে চুঁচুড়ার প্রবীণদের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা প্রচারে তুলে ধরছে তৃণমূল। দলের প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য, ও‌ই পরিকল্পনা ভবিষ্যতে রূপায়ণ করতে চান বলে প্রচার করছেন। নতুন প্রজন্মের কথা সমস্ত রাজনৈতিক দলই এবারের ভোটে বারবার বলছে। সেখানে দেবাংশুর ওই প্রবীণ-পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে। দেবাংশু দাবি করেছেন, প্রবীণদের জন্য তিনি বিশেষ উৎসব করবেন। যা সারা বছর ধরে চলবে। সঙ্গে থাকবে একাকী প্রবীণ-প্রবীণাদের জন্য বিশেষ সাহায্যকারী সেল।

Advertisement

ভোট মরশুমে যে কোনো রাজনৈতিক প্রস্তাব মানেই তরজার দরজা খুলে দেওয়া। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তৃণমূলের ওই প্রচারকে ঘিরে চুঁচুড়ার ভোট-রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। কোথাও একটি নতুন রকমের ভাবনার সমর্থনে মানুষ জুটে যাচ্ছেন তো, কোথাও বিরোধী রাজনৈতিক মহল থেকে ভেসে আসছে কটাক্ষ। দেবাংশু বলেন, চুঁচুড়া বিধানসভা এখন আমার বৃহত্তর পরিবার। সেখানে বাড়ির নবীন ব্যবসায়ী সদস্য থেকে চাকরিজীবী, বেকার এবং প্রবীণ-প্রবীণারা থাকবেন। আমি সকলের জন্য কিছু না কিছু পরিকল্পনা করেছি। সেসবই মানুষকে বলছি। প্রবীণরা বর্তমান সময়ে খুবই নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেন। সেই নিরিখেই বছরভর উৎসবের মাধ্যমে তাঁদের জীবনে বাড়তি রং আনার কথা ভেবেছি। পাশাপাশি, তাঁদের প্রাত্যহিক প্রয়োজন মেটানোর কাজটাও জরুরি। ওই কাজের জন্য আমরা উদ্যমী ছেলেদের নিয়ে একটি বিশেষ দল তৈরি করব। প্রবীণদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। বার্ধক্যভাতার সুবিধা সমস্ত প্রবীণরা পেলে তাঁদের আর্থিক সুরাহা হবে। আমি ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য একটি স্থায়ী স্ক্রিন, শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রশিক্ষণের কথা বলেছি। এনিয়ে বিজেপির প্রার্থী সুবীর নাগ বলেন, ভোটের মুখে মিথ্যা স্বপ্ন ফেরি করতে তৃণমূলের জুড়ি নেই। রাজ্যে কাজের সুযোগ নেই বলেই বাঙালি পরিবারের সন্তানদের অসহায় বাবা-মাকে একলা রেখে ভিনরাজ্যে ছুটতে হয়। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাটাই বেশি জরুরি। আমরা রাজ্যে ক্ষমতায় এসে আগে বাংলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী সুনীল সাহা বলেন, বিজেপি দেশে কত কর্মসংস্থান করেছে, তার হিসাবে দিতে পারবে? আমরা জানি। একটি চাকরিও গত ১৩ বছরে বিজেপি দেয়নি। আর তৃণমূল টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়ে কেড়ে নিয়েছে। প্রবীণদের জন্য ভাবনা ভালো, কিন্তু ভাবছেন কে, সেটাও তো দেখতে হবে। যদিও প্রবীণদের একাংশ রাজনৈতিক তর্কের বাইরে ওই প্রস্তাবের প্রশংসাই করছেন। তাঁদের দাবি, একজন নবীন প্রার্থী প্রবীণদের জন্য পরিকল্পনা করে থাকলে, তা খারাপ কী? পাশের বিধানসভা চন্দননগরে ইতিমধ্যেই তৃণমূল বিধায়ক প্রবীণদের নিয়ে কিছু পরিকল্পনা কার্যকর করেছেন। দেবাংশু বাড়তি উদ্যোগ নিলে তা নাগরিক সমাজের জন্য উপকারই হবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ