নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রামরাজাতলা স্টেশন যাওয়ার ব্যস্ততম রাস্তা হল রামচরণ শেঠ রোড। সেই রাস্তার পাশে দীর্ঘদিনের পুরনো আবর্জনা ফেলার একটি ভ্যাট আছে। সেটি এখন পড়ে রয়েছে আধভাঙা অবস্থায়। কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে ভ্যাটটি। সেখানে জমে থাকা আবর্জনা সরিয়ে নেওয়ার পর প্রায় রাস্তার মাঝ বরাবর চলে আসে গভীর একটি গর্ত। সেই গর্তকে কোনোভাবে পাশ কাটিয়ে দিনভর বাস, অটো, টোটো ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। নিত্য দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
হাওড়া পুরসভার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের রামচরণ শেঠ রোড রামরাজাতলা স্টেশনে যাওয়ার অন্যতম রাস্তা। দিনের বেশিরভাগ সময় সেখানে যানজট লেগে থাকে। রাস্তার দু’ধারে বাজার বসে। ফলে আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে রাস্তা। রামরাজাতলা-ধর্মতলা যাওয়ার ৫২ নম্বর বাসের স্ট্যান্ড এখানে। রামরাজাতলা বাজার সহ আশপাশের এলাকার আবর্জনা ফেলা হয় এই ব্যস্ত রাস্তার উপর থাকা বহুদিনের পুরনো ভ্যাটটিতে। সেটি একেবারে ভাঙাচোরা। প্রায়শই জঞ্জাল গড়িয়ে রাস্তায় চলে আসে। সেই আবর্জনার উপর দিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হয় পথচারী এবং যানবাহন। বিকেলে ভ্যাট পরিষ্কার করা হয়। তারপর গভীর একটি গর্ত বেরিয়ে পড়ে। সেটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় আছে বলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, অতীতেও একাধিকবার ভ্যাট সংস্কারের আবেদন জানানো হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধান হয়নি। রাস্তার ধারে থাকা এই ভ্যাটটির সংস্কার করার দরকার। পরিকল্পনা করে আধুনিক পদ্ধতিতে আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন হবে। এই এলাকায় বড়ো আকারের বর্জ্য ফেলার জায়গা নেই। ফলে ভ্যাটটির গুরুত্ব যথেষ্ট।
রবীন্দ্র সরকার ও রাজেন্দ্র পাল নামে দুই স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ‘বিধানসভা নির্বাচনের সময় এই রাস্তা দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীদের রোড শো হয়েছে। সে সময় দুর্ঘটনা আটকাতে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে ভ্যাট ঘিরে দেওয়া হয়েছিল। দুর্গন্ধ রুখতে দিনে চার থেকে পাঁচবার ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো হয়েছিল। তবে ভোট মিটতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে গিয়েছে সবকিছু।’ অন্যান্য বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষার জমা জলে ভ্যাটের গভীর গর্ত চরম বিপদসংকুল হয়ে উঠেছে। যদিও শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘আগে ভ্যাট থেকে সময়মতো আবর্জনা না তোলার অভিযোগ ছিল। এখন নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে।’ এর পাশাপাশি ভ্যাটের গর্ত যে বিপদের কারণ হয়ে উঠেছে তা স্বীকার করে নিয়ে তিনি দ্রুত সংস্কারের আশ্বাসও দিয়েছেন। নিজস্ব চিত্র