কাঠমাণ্ডু, ২৮ আগস্ট: নেপাল বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে ২ দিন। এখনো পর্যন্ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতদের সংখ্যা। কার্যত মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে এই দেশ। শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৫০০ এর কাছে পৌঁছে গিয়েছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের প্রকাশ করা তথ্যে এখনো পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ। পাশাপাশি আরো জানা গিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ বিদেশি পর্যটক। তাঁদের মধ্যে হিমালয়ে ট্রেকিং করতে যাওয়া পর্যটকদের পাশাপাশি তিব্বতের কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় যাওয়া বহু হিন্দু পুণ্যার্থীও রয়েছেন।
চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জলাধারে প্রায় ২০ লক্ষ কিউবিক মিটার জল জমেছে। এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় জলাধারে জল ঢোকার পরিমাণ প্রায় ৩০ লক্ষ কিউবিক মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাঁধ ভেঙে গেলে প্রবল জলস্রোত নীচের দিকে নেমে গিয়ে চিন-নেপাল সীমান্তের একাধিক এলাকায় আরও বড় ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে বেলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নেপাল-চিন সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল ও সামরিক হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
বিপর্যস্ত এলাকায় বিদেশি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব একাধিক দেশ দিলেও নেপাল সরকার তা গ্রহণ করেনি বলে খবর। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সরকার মনে করছে, নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। পরিবর্তে বিদেশি সাহায্য নগদ অর্থের আকারে একটি কেন্দ্রীয় বা ‘ওয়ান-ডোর’ ব্যবস্থার মাধ্যমে নেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দেশ নেপালকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে। আরও কয়েকটি দেশ উদ্ধার, ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং পরবর্তী পুনর্গঠন পর্বে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে নিখোঁজদের সংখ্যা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে জলাধার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।