দিল্লির  বহুতল ভেঙে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭, গ্রেপ্তার বাড়ির মালিক সহ চার
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৩
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি, ৮ নভেম্বর: দিল্লির চাউড়ি বাজারে একটি নির্মীয়মাণ তিনতলা বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাত। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। মৃতের নাম লুচমান মুখিয়া (৬৬)। তিনি বিহারের দারভাঙ্গা জেলার জাকৌলি গ্রামের বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার জন্য দিল্লির এলএনজেপি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

Advertisement

শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির মালিক সাইমুল্লাহ ওরফে আয়ুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও তিন ঠিকাদারকে। ধৃতদের নাম সিরাজ, তাজউদ্দিন এবং ফুরকান। তিন জনই দিল্লির বাসিন্দা। ফরিদাবাদের সিরোহি গ্রাম থেকে তাঁদের আটক করা হয়। গত ৫ নভেম্বর হাউজ কাজি থানায় চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ২৯০, ১২৫(এ) এবং ৩(৫) ধারায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ভেঙে পড়া বাড়িটিতে বেআইনি নির্মাণকাজ চলছিল। বাড়িটি বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এখনো পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া সাতটি দেহের মধ্যে পাঁচ জন বিহারের খাগাড়িয়া জেলার বাসিন্দা। 

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির চাউড়ি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ তিনতলা বাড়িটি। সকাল ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনার খবর পায় প্রশাসন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লি পুলিশ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকলবাহিনী এবং দিল্লি পুরনিগমের কর্মীরা। শুরু হয় জোরদার উদ্ধারকাজ। বৃহস্পতিবারই ধ্বংসস্তূপ থেকে দু'জনের দেহ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি এক জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এরপর থেকে দফায় দফায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে আরও দেহ উদ্ধার করেন কর্মীরা। 

এই ঘটনায় দিল্লি পুরনিগমের এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার এবং এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের হয়েছে। নির্মাণকাজের বৈধতা এবং বাড়িটির বিপজ্জনক অবস্থা সম্পর্কে আগে থেকে কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।