Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মিলছে না ডেথ সার্টিফিকেট, ‘প্রমাণ’ হিসাবে ভরসা শেষকৃত্যে খরচের বিলই

আগের মতোই জন্ম এবং মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যুর দায়িত্ব থাকুক একাধিক রেজিস্ট্রারের হাতে

মিলছে না ডেথ সার্টিফিকেট, ‘প্রমাণ’ হিসাবে ভরসা শেষকৃত্যে খরচের বিলই
  • ৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগের মতোই জন্ম এবং মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যুর দায়িত্ব থাকুক একাধিক রেজিস্ট্রারের হাতে। এই মর্মে নবান্নে চিঠি পাঠাল কলকাতা পুরসভা। পুর প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডের পাঠানো সেই চিঠিতে একাধিক রেজিস্ট্রার পদে বিভিন্ন নাম প্রস্তাব হিসাবে পাঠিয়ে রাজ্যের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। 

Advertisement

এদিকে, রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে পুরসভার বিভিন্ন শ্মশান, কবরস্থান থেকে আপাতত কোনো মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু করা যাচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই ভোগান্তির মুখে পড়ছে মৃতের পরিবার। এই অবস্থায় শ্মশান বা কবরস্থানে শেষকৃত্য সংক্রান্ত যে খরচ পুরসভা নেয়, সেই বিলটিই প্রমাণ হিসাবে রাখতে বলা হচ্ছে পরিবারকে। পরবর্তীকালে রেজিস্ট্রার নিযুক্ত হলে সেই বিলের পরিপ্রেক্ষিতে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এতদিন মৃত্যুর শংসাপত্রে স্বাক্ষরের দায়িত্ব কলকাতার বিভিন্ন শ্মশান ও কবরস্থানের সাব-রেজিস্ট্রারদের দেওয়া ছিল। আপাতত তাঁদের স্বাক্ষর করার ক্ষমতা না থাকায় শেষকৃত্যস্থল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট মিলছে না। পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, মৃত্যু শংসাপত্রের জন্য আলাদা বিল বা অ্যাকনলেজমেন্ট কপি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই শেষকৃত্যের খরচের বিল যত্ন করে রাখতে বলে দেওয়া হচ্ছে। নেওয়া হচ্ছে ফোন নম্বর। পরে ফোন করে শংসাপত্র দিয়ে দেওয়া হবে। 
কিন্তু কেন পুরসভা নবান্নকে চিঠি পাঠাল? সম্প্রতি রাজ্য একটি নির্দেশিকা জারি করে জানায়, কলকাতা পুরসভায় রেজিস্ট্রার হিসাবে নিযুক্ত হবেন একজন মাত্র রাজ্য সরকারি অফিসার। তিনিই জন্ম এবং মৃত্যু শংসাপত্রের যাবতীয় সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করবেন। ওই রেজিস্ট্রার নিযুক্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় পুর-কমিশনারকে। কিন্তু একজন রেজিস্ট্রার কীভাবে বিপুল সংখ্যক শংসাপত্র ইস্যুর দায়িত্ব সামলাবেন, এভাবে কত দিনে সার্টিফিকেট ইস্যু করা যাবে—এসব প্রশ্নে সংশয় দেখা দেয়। সূত্রের খবর, কলকাতার ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব ১৬টি বরোতে ১৬ জন রেজিস্ট্রারের উপর ছাড়া হয়েছিল। ডেথ সার্টিফেকেটের ক্ষেত্রে প্রাথমিক চাপ সামলাতেন শ্মশান বা কবরস্থানের সাব-রেজিস্ট্রার। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী চলতে গেলে সার্টিফিকেট ইস্যু অনেক সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়াবে এবং নাগরিকদের দুর্ভোগ বাড়বে বলেই মত পুরকর্তাদের। এক আধিকারিক বলেন, ‘এখনও জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের পোর্টাল বন্ধ। পোর্টাল খোলার পর সেখানে মাত্র একজন রেজিস্ট্রারের পক্ষে এত সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখা এবং স্বাক্ষর করা কখনওই বাস্তবসম্মত নয়। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়েছি, যাতে কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে পুরানো নিয়মই চালু রাখা যায়। সমস্যার গভীরতা বুঝে পুর-প্রশাসক নতুন রেজিস্ট্রারদের নাম প্রস্তাব করে নবান্নে পাঠিয়েছেন। সেখান থেকে অনুমোদন মিললে জন্ম এবং মৃত্যু শংসাপত্র সার্টিফিকেট ইস্যু করার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ