সংবাদদাতা, ঝালদা:শহরের যানজট কমানো ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছে ঝালদা পুরসভা ও প্রশাসন। প্রথমে ৩০ জুন পর্যন্ত স্বেচ্ছায় অবৈধ দখলদারদের সরানোর সময়সীমা দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে সেই সময় বাড়িয়ে ৫ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার মাইকে প্রচার করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নতুন সময়সীমা ঘোষণার পর থেকেই ঝালদা বাজার-সহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ব্যবসায়ী নিজেরাইউদ্যোগ নিয়েরাস্তার উপর থাকা টিনের ছাউনি, অস্থায়ী কাঠামো ও দোকানের বাড়তি অংশ সরাতে শুরু করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দখলদার না সরালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্রের খবর, ৬ জুলাই থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতে পারে। ঝালদা শহরের মধ্য দিয়ে রাঁচি–পুরুলিয়া রাজ্য সড়ক যাওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। বাঁধাঘাট, বাজার এলাকা, বাসস্ট্যান্ড থেকে হাটতলা পর্যন্ত বহু জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও রাস্তার একাংশ দখল হয়ে রয়েছে। ফলে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি প্রায়ই তীব্র যানজট দেখা দেয়। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।ঝালদা পুরসভার চেয়ারম্যান সুরেশ আগরওয়াল বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই মাইকে প্রচার হচ্ছে। যাঁরা নিজেরা দখল সরিয়ে নেবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। প্রশাসন সূত্রে দাবি, ব্যবসায়ীদের অযথা ক্ষতি এড়াতেই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা স্বেচ্ছায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পারেন। এদিকে, শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, যানজট কমানোর স্বার্থে এই উদ্যোগকে তাঁরা সমর্থন করেন এবং অনেকেই ইতিমধ্যেই নিজেদের দোকানের বাড়তি অংশ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। তবে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করলে তাঁদের জীবিকা সংকটে পড়বে। অন্যদিকে, জেলা কংগ্রেস আগেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে কংগ্রেস আন্দোলনের রাস্তায় যাবে।এখন ৫ জুলাইয়ের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর ঝালদাবাসীর।



