Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডিভিসির ক্যানেলে মিলছে না পর্যাপ্ত জল সোনামুখী-দুর্গাপুর রাস্তা অবরোধ চাষিদের  

ডিভিসির ক্যানেলে মিলছে না পর্যাপ্ত জল সোনামুখী-দুর্গাপুর রাস্তা অবরোধ চাষিদের  
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সেচের জন্য ডিভিসি ক্যানেলে পর্যাপ্ত জল না পাওয়ায় রবিবার চাষিরা সোনামুখী ও পাত্রসায়রে দুই প্রধান রাস্তায় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। এদিন সোনামুখীর নফরডাঙায় সোনামুখী-দুর্গাপুর রাস্তায় পাইপ ফেলে প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে অবরোধ করে চাষিরা। এছাড়াও পাত্রসায়রের ধগড়িয়ায় সোনামুখী-বর্ধমান মেন রোডেও কিছুক্ষনের জন্য অবরোধ করা হয়। চাষিদের অভিযোগ, ক্যানেলে পর্যাপ্ত জল না আসায় বিঘার পর বিঘা বোরো ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছে। ধানের গাছ শুকিয়ে গিয়েছে। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। তাই এদিন রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে ডিভিসির এক আধিকারিক নফরডাঙায় এলে তাঁকে ঘিরেও চাষিরা বিক্ষোভ দেখান। তিনি জলের স্তর বৃদ্ধির ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। অন্যদিকে পাত্রসায়রের ধগড়িয়াতে একই দাবিতে চলা বিক্ষোভ পুলিসের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়। 
Advertisement
ডিভিসির সোনামুখী সার্কেলের জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব শেখ বলেন, চাষিদের দাবি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিভিসি সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, ২৬ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ক্যানেলে জল দেওয়া হবে। সোনামুখীর মহেশপুর, রাউতোড়া, গোবিন্দপুর প্রভৃতি গ্রামের চাষিদের অভিযোগ, প্রথম পর্যায়ে জল দেওয়ায় চাষিরা বোরো ধান রোপণ করেছেন। কিন্তু তারপর মাঝে বেশ কিছুদিন ক্যানেলে জল না দেওয়ায় মাঠ শুকিয়ে যায়। বিঘার পর বিঘা জমিতে ধানের গাছও মরে যায়। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্যানেলে জল ছাড়া হলেও জলের স্তর কম থাকায় তা দিয়ে পর্যাপ্ত সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় চাষিরা রবিবার নফরডাঙা মোড়ে জড়ো হন। এরপরেই বেলা সাড়ে ন’টা নাগাদ সোনামুখী-দুর্গাপুর রাস্তায় পাইপ ফেলে অবরোধ করেন। দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা ধরে অবরোধ চলে। বহু যানবাহন আটকে পড়ে। পরে সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক এসে জলের স্তর বাড়ানোর ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করার আশ্বাস দেওয়ায় অবরোধ উঠে যায়। অপরদিকে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে রাইট ব্যাঙ্ক ক্যানেল সোনামুখীর উপর দিয়ে পাত্রসায়রের দিকে গিয়েছে। একই ক্যানেলে পর্যাপ্ত জল না পাওয়ার অভিযোগ তুলে এদিন পাত্রসায়রের ধগড়িয়াতেও চাষিরা অবরোধ করেন। প্রায় আধঘন্টা ধরে অবরোধ চলে।
মহেশপুরের বাসিন্দা মিলন তরফদার, অমল ঘোষ সহ বিক্ষোভকারি চাষিরা বলেন, ডিভিসি বোরো চাষে জল দেওয়ার কথা ঘোষণা করার জন্যই আমরা চাষ করেছি। ইতিমধ্যে বিঘা প্রতি চাষে ৬ হাজার টাকা করে খরচ হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে বহু জমিতে রোয়া ধানগাছ মরে গিয়েছে। শুক্রবার রাতে ক্যানেলের জল ছাড়ায় কিছুটা আশা দেখেছিলাম। কিন্তু জলের স্তর খুবই কম থাকায় তা মাঠ পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে না। এই অবস্থায় ধান বাঁচানোর আর কোনও রাস্তা না দেখতে পেয়ে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ