সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: গরিব হওয়ায় সরকারি চাকুরে জামাইকে মোটা টাকা পণ দিতে পারেননি বাপেরবাড়ির লোকজন। অন্যত্র বিয়ে হলে ২০লক্ষ টাকা নগদ সহ গাড়ি, বাড়ি পাওয়া যাবে। তাই ডিভোর্স দিতে চান। কিন্তু, বধূ তাতে রাজি হননি। অগত্যা হাওড়ার ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের পর বধূকে শ্বাসরোধ করে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়। এমনই অভিযোগে পুলিসের দ্বারস্থ হলেন জয়পুরের এক বধূ। তাঁর অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অমতে বিয়ে করায় প্রথমে ডিভোর্সের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে হাওড়ার ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির অন্যান্যরা মিলে শ্বাসরোধ করে প্রাণে মারার চেষ্টা করে। কোনওরকমে সেখান থেকে পালিয়ে এসে বর্তমানে তিনি বাপের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। দোষীদের শাস্তির আর্জি জানিয়ে তিনি কোতুলপুর থানার দ্বারস্থ হন। পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
Advertisement
বধূর অভিযোগ, জয়পুর থানা এলাকার বাসিন্দা পেশায় সরকারি চাকুরে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পাঁচবছর ধরে প্রেমপর্ব চলার পর তিনি বিয়ের জন্য যুবককে চাপ দিলে পরিবারের লোকজন তাতে আপত্তি জানান। সেই জন্য তাঁরা লুকিয়ে ২০২৩ সালে রেজিস্ট্রি বিয়ে করেন। সেই ঘটনা জানার পরেই যুবকের পরিবারের লোকজন তাঁকে হুমকি দিতে থাকে। প্রাণে মারার হুমকিও দেয়। এই পরিস্থিতিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ক্রমাগত হুমকির চাপ এড়াতে চারমাস আগে তাঁরা যুবকের কর্মস্থলে হাওড়ায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে চলে যান। কিন্তু, সেখানে গিয়েও রেহাই পাননি। অভিভাবকদের চাপের মুখে ওই যুবকও ডিভোর্স চেয়ে তাঁর স্ত্রীর উপর নির্যাতন শুরু করে। অন্যত্র বিয়ে হলে ২০লক্ষ টাকা পণ ছাড়াও গাড়ি বাড়ি পাওয়া যাবে বলে অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। গত ২ ডিসেম্বর পরিবারের লোকজনকে হাওড়ার ফ্ল্যাটে ডেকে সকলে মিলে ডিভোর্স পেপারে সই করানোর চেষ্টা করে। তা না করায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে শারীরিক অত্যাচার চালানো হয়। শেষে শ্বাসরোধ করে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়। কোনওরকমে সেখান থেকে পালিয়ে এসে হাওড়া স্টেশনে রাত কাটিয়ে পরের দিন সকালে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর বাপেরবাড়ি চলে আসেন। তারপর অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়ে কোতুলপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।



